sikhonio choto golpo. sera motivational golpo. best 2 শিক্ষণীয় ছোট গল্প।

Spread the love

আজ ২ টি সেরা শিক্ষণীয় ছোট গল্প (sikhonio choto golpo) থাকছে। আমাদের মানবতাই যে মনুষ্য জাতির পরম ধর্ম সেটি প্রথম গল্পটিতে প্রতিফলিত হয়েছে। আর দ্বিতীয় গল্পটিতে রয়েছে কিছু অপূর্ণ ইচ্ছের কথা। যেগুলি আমাদের আপাত দৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হয়।

sikhonio choto golpo:- ১

রাহুল নামে এক গরীব ছেলে স্কুলের ভর্তির টাকা জোগাড় করতে পাড়ছিল না। তাই সে বিভিন্ন জিনিস-পত্র এর-ওর দরজায় বিক্রি করা শুরু করে। তার এমনই দুর্ভাগ্য যে একদিন তার একটিও জিনিস বিক্রি হল না। আবার এইদিকে তার প্রচণ্ড খিদে পেয়ে গেছে। সে ঠিক করে এবার সে যেই দরজায় যাবে তাদের বলবে তারা জিনিস না কিনলেও, তারা যেন তাকে একমুঠো খাবার দেয়।

একটি বাড়ির দরজায় গিয়ে যখন সে টোকা মারল, একজন মেয়ে এসে দরজাটি খুলে দিল। মেয়েটিকে দেখে ছেলেটি ঘাবড়ে গেল, সে খাবার চাওয়ার পরিবর্তে এক গ্লাস জল চেয়ে বসল। মেয়েটি বুঝল ছেলেটি ক্ষুধার্ত। তাই সে একটি বড় গ্লাসে ভর্তি দুধ এবং অন্য গ্লাসে জল নিয়ে আসে। ছেলেটি কিছু না বলে মেয়েটির হাত থেকে দুধের গ্লাসটি নিয়ে ধীরে ধীরে পান করে।

কত টাকা দিব? ছেলেটি মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করল।

টাকা! কিসের টাকা? মেয়েটি প্রত্যুতরে বলল। মা আমাকে শিখিয়েছেন যদি কখনও কারও সেবা করার সুযোগ হয়, তাহলে সেবা করতে হয় এবং বিনিময়ে তার কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া যায় না।

এই ঘটনার পর বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে। সেই মেয়েটির ভীষণ অসুখ। পাড়ার ডাক্তার কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। শেষে বাধ্য হয়ে কোনো বড় হসপিটালে মেয়েটিকে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন তিনি।

বাধ্য হয়েই মেয়েটির পরিবার তাকে একটি বড় হসপিটালে ভর্তি করায়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হাবাড কেল্লি কে রোগীকে পরীক্ষা করার জন্য ডাকা হল, যখন তাকে মেয়েটির নাম বলা হল তার নিজের অজান্তেই তার চোখে কেমন যেন একটা চমক খেলে গেল।   

sikhonio choto golpo
sikhonio choto golpo শিক্ষণীয় ছোট গল্প

তিনি তাড়াতাড়ি নিজের কেবিন থেকে বেড়িয়ে সেই মেয়েটির বেডের কাছে গেলেন। মেয়েটিকে দেখে তিনি প্রথমবারেই চিনতে পাড়লেন। ডাক্তারবাবু ঠিক করলেন, তিনি মেয়েটির জীবন বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তার সেবায় মেয়েটি কিছুদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে গেল।

ডাক্তার হসপিটালের অফিসে গিয়ে সেই মেয়েটির বিল নিয়ে নিলেন। সেই বিলের নীচের একটি কোণে কিছু একটা লিখলেন। বিলটি যখন মেয়েটির হাঁতে পৌছাল সে চমকে গেল। কারণ অসুখ থেকে তো সে বেঁচে গেছে কিন্তু এত পরিমান বিল থেকে তার আর বাঁচার কোনো উপায় নেই।

বিলটি দেখতে দেখতে যখন সে বিলের একেবারে নীচের প্রান্তে চলে এসেছে সে দেখল বিলের একটি কোণায় লিখা আছে- “এক গ্লাস দুধের বিনিময়ে এই বিলটি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।“  নীচে রয়েছে ডাক্তার কেল্লির হস্তাক্ষর।

খুশিতে নিজের অজান্তেই সেই মেয়েটির চোখ দিয়ে দু-ফোঁটা জল বিলটির উপর পড়ল। মেয়েটি তার দুটি হাত উপড়ে তুলে দিয়ে বলল- “হে ঈশ্বর আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আপনার ভালোবাসা মানুষের হৃদয় এবং হাতের মাধ্যমে পৃথিবীর সর্বত্র পৌঁছে গেছে।“

শিক্ষণীয় কথাঃ- এই শিক্ষণীয় গল্পটি থেকে একটি কথাই উঠে আসে। আর সেটি হল মানবতা। যদি সেই মেয়েটি ছেলেটির কাছে থেকে সেদিন টাকা নিত তাহলে ছেলেটির কোনো দিনও মনেও থাকত না যে সে যখন ক্ষুধার্ত ছিল তাকে কেউ দুধ খাইয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ আপনি নিজেকেই ধরুন না- আপনি অনেক ব্যাগ নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, হঠাৎ কেউ এসে আপনাকে সাহায্য করল। আপনার দুটি ব্যাগ সেও নিল, আপনি তার উপকারের কথা মনে রেখে দিবেন। কিন্তু যখন একজন কুলি আপনার ব্যাগ বয়ে দিবে এবং আপনি বিনিময়ে তাকে কিছু অর্থ দিবেন, আপনার এই কথাটি পরবর্তীতে মনে থাকবে না। কিন্তু যে লোকটি আপনাকে ব্যাগ নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, এরপর যখনই আপনি ব্যাগ নিয়ে যাবেন বা সেই রাস্তাটি দিয়ে যাবেন আপনার সেই মানুষটির কথা মনে পড়বে।

সুতরাং সবকিছু অর্থ দিয়ে কেনা যায় না, আর অর্থ দিয়ে কেনা সামগ্রীর কথা মনেও থাকে না। কিন্তু মানবতার খাতিরে যা পাওয়া যায় তা সারাজীবন মনে থেকে যায় এবং নিজের অজান্তেই ঈশ্বর সেই প্রতিদান সুদে-আসলে দিয়ে দেন। তাই সুযোগ পেলেই সাহায্য করতে ছাড়বেন না। কারণ সাহায্য করার সুযোগ বাড়বার আসে না।

শিক্ষণীয় ছোট গল্প helping
শিক্ষণীয় ছোট গল্প helping

sikhonio choto golpo sera motivational golpo শিক্ষণীয় ছোট গল্প

পড়ুনঃ- চরম ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

রাজার কর্মচারী পরীক্ষা

শিক্ষণীয় ছোট গল্পঃ- ০২

এক জঙ্গলে তিনটি বিশালাকার গাছ ছিল। তার তিনজন পাশাপাশি থাকায়, তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হত। একদিন এরকমই আলোচনা জমে উঠেছে। সেদিন আলোচনা চলছে কার কি ইচ্ছা তা নিয়ে। 

প্রথম গাছটি বলল- “ আমি ধন-রত্ন রাখার বিশাল বাক্স হতে চাই, আমার ভিতর ধন-রত্ন থাড়ে থাড়ে সাজানো থাকবে। আমার ভিতরে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী দামী পাথর, হীরে থাকবে। আমাকে সম্মানের সাথে সবাই দেখভাল করবে। সবাই আমার সৌন্দর্যে বাহবা দিবে। এটাই আমার স্বপ্ন।“

দ্বিতীয় গাছটি বলল- “আমি তো বিরাট জলজাহাজ হতে চাই। যাতে বড় বড় রাজা-রানি আমার উপড়ে চড়ে দূর দেশে যাত্রা করতে পাড়বে। সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশির মধ্যে আমি মাথা উঁচিয়ে চলতে থাকব। আমার মধ্যে থাকলে সবাই সুরক্ষিত মনে করবে, আমি যেন আমার নিজের শক্তির উপর বিশ্বাস রাখি। এটাই আমার স্বপ্ন।“

তৃতীয় গাছটি বলল-“আমি এই জঙ্গলটির সবথেকে বড় এবং সবথেকে উঁচু গাছ হতে চাই। মানুষ যেন দূর থেকে দেখেই আমাকে চিনতে পাড়ে, আমাকে দেখে তারা যেন বুঝতে পাড়ে যে এটাই হল ঈশ্বরের দান। আমার শাঁখা-প্রশাখা বৃদ্ধি হতে হতে যেন স্বর্গে পৌঁছে যায়। আমি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বৃক্ষ হতে চাই এটাই আমার স্বপ্ন।“

এই রকম নানান স্বপ্ন দেখতে দেখতেই তাদের দিন কাটে। আর এভাবেই চলে যায় কয়েকটা বছর। একদিন জঙ্গলে কিছু কাঠুরিয়া আসল, এবং তাদের মধ্যে একজন প্রথম গাছটিকে দেখে বলল- “এই গাছটি বিক্রি করলে বেশ মোটা টাকা পাওয়া যাবে। তাই সে সেই গাছটিকে কেটে দিল। এদিকে সেই গাছটি মনে মনে বেজায় খুশি। কারণ তার বিশ্বাস ছিল যে এবার তাকে হয়ত ধন-রত্ন রাখার বাক্স বানাবে।

দ্বিতীয় গাছটিকে দেখে অন্য আরেকজন কাঠুরিয়া বলল- “এই গাছটিও বেশ মোটা-সোটা ও মজবুত। এটাকে আমি নিয়ে নিই।“ এই বলে সেও দ্বিতীয় গাছটিকে কেটে দিল। দ্বিতীয় গাছটিও বেজায় খুশি। কারণ তাকে দিয়ে এবার হয়ত জাহাজ বানানো হবে।

কাঠুরিয়ারা যখন তৃতীয় গাছটির কাছে গেল, তখন গাছটি অনেক ভয় পেয়ে গেল, কারণ তাকে কেটে দিলে তার স্বপ্ন পূরণ হবে না। একজন কাঠুরিয়া বলল- “এই গাছটিতে বিশেষ কিছু আমি দেখছি না, তবুও খালি হাঁতে তো আর ফেরা যায় না, তাই এটাকেই কেটে ফেলি।“ এই বলে সে তৃতীয় গাছটিকে কেটে ফেলল।

প্রথম গাছটিকে একজন ব্যাধ কিনে নিলেন এবং তিনি সেটা দিয়ে পশুদের খাবার দেওয়ার পাত্র বানালেন। এরপর সেখানে কিছু পশুখাদ্য রাখলেন। বেচারি গাছটি ভাবতেও পারেনি যে তার সাথে এত খারাপ কিছু হবে।

দ্বিতীয় গাছটিকে দিয়ে মাছ ধরার নৌকা বানানো হল। আর এর সাথে সাথেই তার বিশাল জলযান হয়ে রাজা-মহারাজাদের সাথে বিদেশে ঘোরার স্বপ্নও ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল।

তৃতীয় গাছটিকে যিনি কিনলেন তিনি সেই গাছটিকে টুকরো টুকরো করে কেটে একটি বদ্ধ ঘড়ে রেখে দিলেন। মানুষ হয়ত তার কথা ভুলেই গেল।

একদিন পশুশালায় একজন মানুষ তার স্ত্রীকে প্রচণ্ড প্রস্রব যন্ত্রণা নিয়ে সঙ্গে করে আনলেন। সেখানে তিনি একটি শিশুর জন্ম দিলেন। কিন্তু শিশুটিকে রাখার মত উপযুক্ত পাত্র বা জায়গা তারা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে তাদের দৃষ্টি গেল সেই প্রথম গাছটি দিয়ে বানানো পশুখাদ্য দেওয়ার পাত্রটির দিকে। তারা সেখানে তাদের নবজাতককে নিয়ে চিকিৎসালয়-এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।

ঠিক এই সময় প্রথম গাছটির মনে হল, পৃথিবীর সবথেকে মূল্যবান এবং নিষ্পাপ প্রাণ তার মধ্যে আছে। এই নিষ্পাপ পবিত্র প্রানের মূল্য হীরা-সোনার থেকেও কয়েক গুন বেশি। সোনা-হীরে লুঠ করে নিয়ে আসা হয়, তাতে অনেক পাপ লেগে থাকলেও এই নিষ্পাপ জীবনটির মূল্য দামী রত্নের থেকেও কয়েক গুন বেশি।

এভাবেই সময় চলতেই থাকল। কয়েক বছর পর, কয়েকজন যুব দ্বিতীয় বৃক্ষটি দিয়ে তৈরি করা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে চলে গেলেন। ঠিক সেই সময় প্রচণ্ড ঝড় শুরু হল। তাদের মনে হতে লাগল এবার তারা নেহাত মারা পড়বে। যুবকদের মধ্যে একজন দাঁড়িয়ে পরলেন এবং নৌকার হাল ধরে কোনো মতে নৌকাকে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাচালেন। এই সময় হঠাৎ সেই দ্বিতীয় গাছটির মনে হল যে, সে সাগরের প্রচণ্ড বেগকে দমিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছে। সে প্রচণ্ড তুফানকে বশ করে কয়েকটি প্রাণ বাঁচাতে পেরেছে।  

sera motivational golpo trees
sera motivational golpo trees

sikhonio choto golpo sera motivational golpo শিক্ষণীয় ছোট গল্প

এভাবেই তৃতীয় গাছটির কাছেও একদিন কিছু লোক এল, এবং সেই গাছটিকে নিয়ে গেল এবং একজন অপরাধীকে সেই গাছটির বেড়ের সাথে বেঁধে দিয়ে একটি পাহাড়ের চূড়ায় ক্রুশের মত করে গেঁথে রেখে দেওয়া হল।

এই ঘটনার একদিন পর সেই তৃতীয় গাছটির মনে হল যে এই পাহাড়টির মাধ্যমে সে স্বর্গ এবং ঈশ্বরের সবথেকে কাছে চলে এসেছে।

আমাদের কর্ম-ধর্ম-আস্থা সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও যদি আমাদের জীবনে এমন কোনো পরিস্থতি আসে যেখানে আমাদের মনে হয় যে আমরা ঠিক থাকলেও আমাদের ভাগ্য সহায় নেই। সমস্ত কাজেই শুধু বাঁধা আর ব্যর্থতা, তখনই আমাদের ধরে নেওয়া উচিত যে, ঈশ্বর হয়ত আমাদের জন্য বিশেষ কিছু ভেবে রেখেছেন যার কল্পনা আমরা করতেও পারিনা।

গল্পে কিন্তু তারা যে রূপে পূরণ করতে চেয়েছিল সেই রূপে হয়নি ঠিকই, কিন্তু প্রতিটি বৃক্ষেরই মনের ইচ্ছা পূরণ হয়েছিল। আমরা কেউই জানিনা যে ঈশ্বর আমাদের জন্য কি ভেবে রেখেছেন আমাদের জন্য কোন রাস্তা খুলে রেখেছেন। আমরা কখনও বিশ্বাস করতে চাই না যে ঈশ্বর যা করবেন মঙ্গলই করবেন তাই তার দেখানো রাস্তায় না চলে অন্য রাস্তা বাছাই করে নিই। কিন্তু আমরা এটা ভুলে যেই যে, তার দেখানো রাস্তাই সর্বশ্রেষ্ঠ রাস্তা।

পড়ুনঃ- ১৮ টি কাজের কথা

হুমায়ুন আহমেদের প্রেম ও মেয়েদের নিয়ে কিছু কথা
আমাদের সাথে যুক্ত হবেন যেভাবে- 
ফেসবুক-facebook

টেলিগ্রাম- charpatraOFFICIAL

WhatsApp-ছাড়পত্র

“sikhonio choto golpo sera motivational golpo শিক্ষণীয় ছোট গল্প”


Spread the love

Leave a Reply