ব্যর্থ মানুষের সফলতার গল্প। সফলতার ছোট গল্প। ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। top 3 bengali motivational story. Real life-changing stories bengali.

Spread the love

আজ তিনজন ব্যর্থ মানুষের সফলতার গল্প আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আমাদের মধ্যে একটি কথা প্রচলিত আছে যে “বাপের সম্পত্তি থাকলে সফল হওয়া কোনো ব্যাপার না” কিন্তু এই কথাকে ভ্রান্ত প্রমান করে দিয়েছেন এই সকল সফল ব্যক্তিগণ। আজ রইল এমনই ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

ব্যর্থ মানুষের সফলতার গল্প। সফলতার ছোট গল্পঃ-

ব্যর্থতা থেকে সফলতার গল্প . kfc এর মালিকের জীবনীঃ-

আপনাদের মধ্যে অনেকেই কর্নেল স্যান্ডারস এর নাম শুনে থাকবেন। অনেকেই হয়ত চেনেন না এনাকে, হুম না চেনাটাই স্বাভাবিক। বড় বড় ব্র্যান্ডের নাম মনে থাকলেই যথেষ্ট, এর পিছনে থাকা ব্যক্তিটির নাম না জানলেও চলবে! যে ব্যক্তিটির নাম বললাম, তিনি হলেন KFC এর ফাউন্ডার। KFC নামটি নিশ্চয়ই আপনার কাছে অচেনা নয়! কিন্তু জানেন কি, এই KFC ফাউন্ডারের জীবন কাহিনী?

স্যান্ডারস এর বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর, এমন ছোট্ট বয়সেই সে তার বাবাকে হারায়। সংসারের হাল আসে মায়ের হাঁতে। পরিবারের দুটি পেট, চালাতে মাকে বাধ্য হয়ে কাজে যেতে হত। মা সারাদিন কর্মক্ষেত্রে থাকেন, খিদের জ্বালায় ক্ষুদে ছেলেটি নিজেই রান্না করার প্রয়াস করতে থাকে। শেষে রান্না করার কৌশলও সে রপ্ত করে নেয়। এমন কঠিন সংসারে স্যান্ডারস-এর মাথায় বাজটা তখনই পড়ে যখন, তার মা দ্বিতীয় বিবাহ করে নেয়।

তখন স্যান্ডারস সবে মাত্র সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। বাধ্য হয়েই পড়াশোনা ছেড়ে পালিয়ে গেলেন তিনি। এরপর তাকে দেখা গেছে কখনো জাহাজে বেগার খাটতে আবার কখনো দেখা গেছে সেলসম্যানের ভূমিকায়। আবার কখনো সে নেমে এসেছে একজন অগ্নি-নির্বাপক কর্মীর ভূমিকায়। এই করে বয়স কখন যে ১৬ তে গড়িয়ে গেছে সেদিকে খেয়াল ছিল না তার।

এরপর ১৬ বছর বয়সে যোগদান করলেন সেনাবাহিনীতে চলে গেলেন কিউবাতে। সেখানে কাটালেন অনেকগুলি বছর। চল্লিশ বছর বয়সে তাকে দেখা যায় এক ভিন্ন বেশে। তখন তাকে দেখা যায় একজন চিকেন প্রস্তুত কারকের ভূমিকায়। সেই সময় তার কোনো রেস্তোরা বা হোটেল ছিল না। ধীরে ধীরে চিকেনের কার্যকারিতা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। এরপরেই দ্রুত তার বিক্রি বৃদ্ধি পেতে থাকে। ধীরে ধীরে তার ছোট্ট জায়গাটি একটি ১৪২ সীট যুক্ত হোটেলে পরিণত হয়।

লতার গল্প kfc এর মালিকের জীবনী
সফলতার গল্প kfc এর মালিকের জীবনী

সেখানে তিনি ধীরে ধীরে চিকেন বানানোর একটি নতুন পদ্ধতি pressure fryer আবিষ্কার করেন। এরপরেই তার জীবনে আর কখনো তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৩৫ সালে গভর্নর Ruby Laffoon তাকে Kentucky Colonell উপাধি দেন। সেই যে পথ চলা শুরু হল, তাইই বর্তমানের KFC এর ভূমিকায় প্রজ্বলিত।

আসল কথা হল নিজের যোগ্যতা এবং সঠিক পরিশ্রম যে কোনো বাঁধাকে পাশ কাঁটিয়ে যেতে সক্ষম। শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা, উপযুক্ত পরিশ্রম এবং নিজের যোগ্যতার পরিচয় আপনি পাবেনই পাবেন। শুধু দরকার আপনার মধ্যে থাকা ‘আপনি’ টাকে খুঁজে বেড় করার প্রয়াস।

হেনরি ফোর্ডের সফলতার ছোট গল্পঃ-

Ford-motors এর নাম নিশ্চয়ই আপনার কাছে অজানা কিছু নয়। অনেক সময় আগের কথা, তখন ফোর্ড কোম্পানির মালিক Henry Ford যথেষ্ট নাম-যশ কামিয়েছেন। তার বানানো গাড়ির প্রশংসা পুড়ো বিশ্বজুড়ে। Henry-র এই সফলতা দেখে, ভারতের একজন উদ্যোগপতি একটি গাড়ি কারখানা শুরু করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তার আগে, তিনি একবার হেনরির কাছে গিয়ে কিছু পরামর্শ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। তিনি চলে গেলেন আমেরিকা, সেখানে হেনরির সাথে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে চিঠি লিখলেন।

ফোর্ড জবাবে বললেন- “দিনের বেলায় আমি আপনাকে বেশিক্ষণ সময় দিতে পাড়ব না তাই আপনি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আমার বাড়িতে চলে আসবেন।“

একদিন সন্ধ্যায় তিনি ফোর্ড এর বাড়িতে গেলেন, কিন্তু তাঁকে দেখতে পেলেন না। শুধু দেখলেন, একজন মানুষ বাসন পরিষ্কার করছেন। এরপর ভারতীয় উদ্যোগপতি সেই লোকটির কাছে গিয়ে বললেন- “আমি হেনরি সাহেবের সাথে দেখা করতে চাইই, তিনি কোথায়?” এরপর সেই বাসন পরিষ্কার করতে থাকা লোকটি ভারতীয় উদ্যোগপতিকে বৈঠকখানায় অপেক্ষা করতে বলে ঘড়ের ভিতরে চলে গেলেন। 

কিছুক্ষণ পড় তিনি হাত মুছতে মুছতে এসে বললেন- “ওহ তাহলে আপনিই সেই উদ্যোগপতি, মানুষ আমাকেই হেনরি বলে ডাকে।“

ভারতীয় উদ্যোগপতিকে কিছুটা অসন্তুষ্ট দেখে, সেই লোকটি বললেন- “আমার মনে হয় আপনি বিশ্বাস করছেন না যে, আমিই  Henry Ford, Ford-motors এর প্রতিষ্ঠাতা।“ এরপর সেই ভারতীয় উদ্যোগপতি বলেন- “হ্যাঁ মহাশয় আপনি ঠিকই বলেছেন, আমি বিশ্বাস করতে পারিনি যে আপনিই, সেই বিখ্যাত ব্যাক্তি। আসলে আপনাকে চাকরের কাজ করতে দেখে আমি আপনাকে চাকর ভেবেছিলাম। শুধু আমি কেন, যে কারও এরকম দৃশ্য দেখলে আমার মত ভ্রম হবেই হবে।“

হেনরি বললেন- “যখন আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন আমি আর কয়েকজনের মত সাধারণ মানুষ ছিলাম। নিজের কাজ নিজেকেই করতে হত, নিজের হাঁতে করা কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ আমি Ford-motors এর মত একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পেড়েছি। আমি আমার অতীত ভুলে যেতে চাই না, আমি অতীতে কি ছিলাম আর বর্তমানে কি আছি, সেটা কোনো ব্যাপার না। অতীতের যে পরিস্থিতি আমাকে এই অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমার নিজের কাজ নিজে করতেই বেশি ভালো লাগে। মানুষ যেন আমাকে দামী মানুষ না ভেবে বসে, সেই ভয়েই আমি আমার নিজের কাজ নিজেই করি। এক অদ্ভুত আনন্দ লুকিয়ে থাকে নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে।

হেনরি ফোর্ডের সফলতার ছোট গল্প
হেনরি ফোর্ডের সফলতার ছোট গল্প

এরপর ভারতীয় উদ্যোগপতি দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং বললেন- “মহাশয় আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, আমাকে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা শিক্ষা দেওয়ার জন্য। আমি যে উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার কাছে এসেছিলাম, সেটি সফল হয়েছে। আমি বুঝে গেছি, অন্যের উপর নির্ভর করে সফলতার বীজ বোনা যায় না, সফলতার প্রথম বীজটা নিজেকেই বুনতে হয়। সফলতার পথ অন্যের উপর ভরসা করে নয়, নিজের উপর ভরসা এবং বিশ্বাস রেখে চলতে হয়।     

পড়ুনঃ-  নতুন শিক্ষামূলক গল্প। ঈশপের গল্প সমগ্র 

সফল ব্যক্তিদের জীবনী। অনুপ্রেরণা ও সফলতার গল্প

ব্যর্থ মানুষের সফলতার গল্প। ধীরুভাই আম্বানির জীবনীঃ-

কোনো মতে দিনপাত হয়, কখনো কখনো আবার সাধারণ খরচ করার মত টাকাও জোটে না। এরকমই এক গরীব পরিবারে জন্ম তার। কিশোর বয়সে বাধ্য হয়েই বিস্কুট ফেরী করেছেন। এমনকি তেলের পাম্পে কাজও করেছেন। এরকমই একজন নিরীহ ছেলে যে মৃত্যুর সময় ৬২ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে যাবেন তা কি কখনো কল্পনা করা যায়!

আমি কথা বলছি বিখ্যাত ব্যবসায়ী ধীরুভাই আম্বানিকে নিয়ে। হ্যাঁ তার ছোটবেলাটা এভাবেই কেটেছিল। সবাই বলেন, বাবার সম্পত্তি থাকলে ধনী হওয়া কোনো ব্যাপারই না, কিন্তু তাদের এই ধারণাটি ভুল প্রমান করে, ধীরুভাই আম্বানি জিরো থেকে হিরো হয়েছেন,শুধুমাত্র নিজের দক্ষতা, বিচার শক্তি এবং ধৈর্যকে কাজে লাগিয়ে।

ধীরুভাই রা চার ভাই-বোন ছিল, তার বাবা পেশায় ছিলেন একজন শিক্ষক। আমি ১৯৩২ সালের কথা বলছি, সুতরাং বুঝতেই পাড়ছেন, সেই সময় শিক্ষকদের অবস্থা কি ছিল। এত বড় একটি পরিবারকে নিয়ে পথ চলা মোটেই সরল ছিল না, ধিরুবাইয়ের বাবার কাছে। এমন একটা সময় এসেছে, যখন বাধ্য হয়েই মাঝপথে ধীরুভাই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। পিতার সাহায্যের জন্য ধীরুভাইপড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই কাজে মনযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেন।

কথায় আছে, অনেক অসফলতাই সফলতার সিঁড়ি তৈরি করে। ধিরুবাইয়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পিতাকে সাহায্য করার জন্য তিনি প্রথমে ফলের ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরপর বিস্কুটের ব্যবসা। কিন্তু কিছুতেই নিজের মনের মত একটা সফলতা পাচ্ছিলেন না।

এরপর তিনি ঠিক করলেন, তার গ্রামের নিকটস্থ একটি ধার্মিক জায়গায় তেলেভাজার দোকান দিবেন। কারণ সেখানে অনেক পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু এখানেও দেখা দিল আরেক সমস্যা, কারণ বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে পর্যটকরা আসত। আর এই সময়টিতেই বিক্রি হত বেশি, কিন্তু বাকি সময়ে বিক্রি প্রায় হতই না বলা চলে। সুতরাং এখানেও তিনি বিশেষ একটা লাভের মুখ দেখলেন না। বাধ্য হলেন সেই ব্যবসাটিকেও বন্ধ করতে।

বারংবার অসফলতার বেদনা তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল। এমতাবস্থায় তার বাবা তাঁকে চাকরি করার দিকে মনযোগ দিতে বলেন। একরকম বাধ্য হলেন পিতার কথা মেনে নিতে। ধিরুবাই এর বড় দাদা ইয়েমেন-এ চাকরি করতেন। তার সাহায্যে ধীরুভাই ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। সেখানে একটি পেট্রোল পাম্পে চাকরিতে যোগ দেন। মাত্র দুই বছরেই নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে প্রবন্ধক পদে উন্নীত হলেন।

কিন্তু ধীরুভাই -র মন, যেন চাকরির দিকে নয় ব্যবসার দিকেই বেশি। মাথায় সর্বদা চিন্তা যে, কিভাবে একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়া যায়। ধিরুবাই যে পাম্পে কাজ করতেন, সেখানে কর্মচারীদের চা-খাওয়ার জন্য ২৫ পয়সা করে দেওয়া হত। কিন্তু ধিরুবাই, পাশের একটি হোটেলে চা-খেতে যেতেন, সেখানে চায়ের দাম প্রায় ৭৫ পয়সা বেশি অর্থাৎ ১ টাকা, কিন্তু তা সত্যেও তিনি সেখানেই যেতেন।

 ব্যর্থ মানুষের সফলতার গল্প ধীরুভাই আম্বানির জীবনী
ব্যর্থ মানুষের সফলতার গল্প ধীরুভাই আম্বানির জীবনী সফলতার গল্প

পরবর্তীতে যখন তার কাছে অর্থ না থাকা সত্যেও এমনটি করার কারণ জানতে চাওয়া হয় তখন তিনি বলেন- “সেখানে অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী আসেন, এবং তারা ব্যবসা সংক্রান্ত নানান আলোচনা করেন। ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন কথা বিভিন্ন তথ্য নিয়ে তারা আলোচনা করেন, তাদের আলোচনা শোনার জন্যই, তাদের থেকে ব্যবসা সংক্রান্ত ধারণা নেওয়ার জন্যই আমি সেখানে যাই।“  

আর এরপরে কিভাবে তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে রুপোর মুদ্রা গলিয়ে লন্ডনের একটি কোম্পানির কাছে মোটা টাকায় বিক্রি করেন, কিভাবে কাপড়ের ব্যবসা থেকে এত বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন, সেই গল্প আমাদের সবার জানা। তাই আর পুনরায় শেয়ার করছি না।

একটা কথা আছে, কিছু পাওয়ার জন্য কিছু হারাতে হয়। আম্বানির হোটেলে বেশি টাকা দিয়ে চা-খাওয়ার গল্পটি যেন, তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ।  

পড়ুনঃ- মজার গোয়েন্দা গল্প বিস্কুট রহস্য

“ব্যর্থ মানুষের সফলতার গল্প। সফলতার ছোট গল্প। ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প”

প্রতিদিনের আপডেটের জন্যঃ- facebook- গল্প আর গল্প  

টেলিগ্রাম- CharpatraOFFICIAL

Spread the love

Leave a Reply