Spread the love

আজকের এই নতুন ভৌতিক গল্প টির কেন্দ্রে রয়েছে একটি অভিশপ্ত বাড়ি। সেই অভিশপ্ত বাড়িকে কেন্দ্র ঘটে গেছে বিভিন্ন রহস্যময় ঘটনা। বিস্তারিত, গল্পে।

ভৌতিক গল্পঃ- ‘মুক্তির চাবিকাঠি’

দেখতে দেখতে চোখের পলক পড়ার মতো কি করে যে পাঁচটা বছর পেরিয়ে গেলো তার টেরও পেলো না শিল্পী । কিন্তু এতবছর ধরে এই পাগলাগারদে থাকতে থাকতে সত্যিই ওর মানসিক ভারসাম্য আর আগের মত স্থিতিশীল নেই । যে কারণে সবাই তাকে পাগল বলে ছেড়ে চলে গিয়েছিল এই পাগলদের মাঝে সেই ঘটনার পেছনে একটা বৃহৎ ইতিহাস লুকিয়ে আছে। যেটা না জানলে হয়তো শিল্পীকেই জানা হবে না।

ঘটনাটা আজ থেকে পাঁচ বছর আগের, রামচন্দ্রপুরের এক মান্ধাতার আমলের বাড়িকে কেন্দ্র করে । নিত্যদিন টিউশন শেষ করে শিল্পী একা একাই বাড়ি ফেরে । ওদের গ্রামে শিক্ষার হার খুব কম তাই ওর সহপাঠী তেমন কেউ নেই। আর পেশায় কৃষক তার বাবার পক্ষে প্রতিদিন মেয়েকে নিয়ে যাওয়া আসা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর এদিকে শিল্পীর বিকেল দিকের টিউশন, তারপর শীতকাল তাই ছুটি হওয়ার পর একেবারে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সঙ্গী টর্চকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । গ্রাম থেকে ২ কিমি হাঁটা রাস্তা পেরিয়ে ঘাঁটিতে টিউশন পড়তে আসে শিল্পী । তাই রাস্তার মাঝে অনেক কিছুর সম্মুখীনই তাকে হতে হয় ।

এরকমই একদিন টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার সময় ওর নজর পড়ে গ্রামের মোড়ের ওই মাঠের ধারের পোড়ো কলঙ্কিত বাড়িটার দিকে । অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে শিল্পী , যেই বাড়িটা সম্পর্কে ও কোন সেই ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছে ভুতুড়ে কলঙ্কিত বাড়ি, সেই বাড়িতে আজ চারদিকে মোমবাতি জ্বলছে, পোড়ো বাড়িটা যেন নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে কেউ, ঠিক দীপাবলির দিনের মতো করে ।

নতুন ভৌতিক গল্প
নতুন ভৌতিক গল্প

নিজ চক্ষে বিষয় টা বিশ্বাস করতে না পারলেও, বাড়িতে গিয়ে তার বাবা মা কে সবটা বলে। তারা সবটা শুনে মেয়ের আজগুবি গল্প বলেই হেসে উড়িয়ে দেন । কেউ বিশ্বাস করে না তার কথা । এই একশো বছরের পুরোনো কলঙ্কিত বাড়িতে মোমবাতি কেন কেউ সিগারেট ও জ্বালাতে যাবে না বলে স্কুলের সহপাঠিরাও তার উপহাস করে । শিল্পী নিজেও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে নিজের চোখের দেখাকে সন্দেহ করে । সে ভাবে এটা হয়ত তার মনের ভ্রম।

এভাবেই কিছু দিন কাটতে থাকে । শিল্পী প্রায় দিন টিউশন থেকে আসার সময় ওই বাড়িতে মোমবাতি জ্বলতে দেখে কিন্তু না দেখার ভান করে এড়িয়ে যায় ।

পড়ুনঃ- ভয়ঙ্কর ভুতের গল্প- বদলা 

তবে একদিন টিউশন থেকে বাড়ি ফিরতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায় শিল্পীর। তাই সন্ধ্যার অন্ধকার বেশ ঘনিয়ে আসে কিন্তু সেদিনের অন্ধকারটা যেন একটু বেশিই ঘন ছিল কারণ দিনটা ছিল অমাবস্যার । ভয়ে ভয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । আসার পথে ওই বাড়িটাকে দেখে আচমকা ভয়ে থতমত হয়ে ওঠে । বাড়িটা যেন নিজের জায়গায় নেই অনেকটাই এগিয়ে এসেছে । খুব কাছে হ্যাঁ হ্যাঁ অনেকটাই কাছে । ঠিক যেন মোড়ের মাথায় । শিল্পী নিজেকে আর স্থির রাখতে পারে না। এক অদ্ভুত আকর্ষন যেন তাকে টেনে নিয়ে যায় ওই বাড়ির ভেতরে । দিশেহারা পথভ্রষ্ট হয়ে প্রবেশ করে শিল্পী ওই কলঙ্কিত বাড়িতে ।

শিল্পীর প্রবেশ মাত্রই তার মনে হতে লাগল, সানাইয়ের আওয়াজে পুরো বাড়ি গম গম করে ওঠল। বিশাল উঠোনের মাঝে যেন বিয়ের মণ্ডপ সাজানো আর পাত্র সেখানে অধীর আগ্রহে তার পাত্রীর জন্য অপেক্ষারত । শিল্পী যেন এক মোহজগতে প্রবেশ করে । পরনে তার সালোয়ার কামিজের জায়গায় লাল কালো রঙের একটা বেনারসি কে যেন জড়িয়ে দেয়। শিল্পীকে একটি পিড়িতে তোলা হয় , তবে সেটা হাওয়াতেই ভাস্যমান কোনো মানুষকে আশেপাশে দেখতে পায়নি শিল্পী । সানাইয়ের আওয়াজ , মণ্ডপে যজ্ঞের আগুন আর অপেক্ষারত এক সুদর্শন যুবক যে বিহ্বল চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে । এসব দেখে শিল্পী অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় ।

অভিশপ্ত বাড়ি  haunted house
অভিশপ্ত বাড়ি haunted house

যখন শিল্পীর জ্ঞান ফেরে তখন ও নিজেকে কলঙ্কিত বাড়ির উঠোনে মণ্ডপের সামনে পায়। আবছা দৃষ্টিতে দেখেতে পায়, মেলা দেখতে আসার মত দলে দলে মানুষ তাকে ঘিরে রয়েছে কিন্তু সেগুলো ঠিক মানুষ ও না। কি অদ্ভুত তাদের চেহারা তারা যেন এই জগতের কেউ নয়। আর সেই সুদর্শন যুবক , যে ওর জন্য এই মণ্ডপে অপেক্ষা করছিল সে হাতে সিঁদুরের কৌটো নিয়ে শিল্পীর দিকে দু আঁখি মেলে নিষ্পাপ শিশুর মত তাকিয়ে আছে ।

<

তার কানে ভেসে আসে অনেক মানুষের গুন গুন করে গল্প করার শব্দ। সত্যি যেন কোনো অনুষ্ঠান চলছে এই বাড়িতে, তবে আনন্দ আয়োজনে সবাই ব্যস্ত, কিন্তু “সেই সবাই” টা কোথায় চারদিক তো শুধু খা খা করছে কোনো মানুষের লেসমাত্র নেই , সেই অদ্ভুত প্রাণী গুলোও যেন হঠাৎ কোথায় উধাও হয়ে গেছে । এসব অনুভব করে ভয়ে থতমত হয়ে , উঠে পড়ে চিৎকার শুরু করে শিল্পী “বাঁচাও বাঁ…চ…আ…আ… আ…ও কেউ আমায়” …এ… এরা ক…আ …আ…আ…রা ? আমি কেন কাউকে দেখতে পা…চ…ছি না! ওই পাত্র কে …?

পাশে বসে থাকা ওই যুবকটি শিল্পীর হাত চেপে ধরে শক্ত করে। ওখানেই সিঁদুর এর কৌটো থেকে বিন্দু বিন্দু রক্ত নিয়ে হাতের পাঁচটি আঙ্গুলে ভালো করে চুবিয়ে, প্রথমে শিল্পীর মাথায় তারপর চোখের কোনায় আস্তে আস্তে পুরো মুখমণ্ডলে রক্ত লেপন করে বিকট আওয়াজ হাসতে হাসতে বলে ওঠে ” প্রতি জন্মে তুমি আমারই হবে। ওই বাড়ি যে আমাদেরই ভালোবাসার সাক্ষী “।

পড়ুনঃ- রান্নাঘরে কার আত্মা! 

শিল্পী তাজমহলকে ভালোবাসার সাক্ষী বলে শুনেছে কিন্ত এই অভিশপ্ত বাড়ি আবার তার ‘ভালোবাসার সাক্ষী’ শুনে ভয় পেয়ে আর্ত দুটি কাতর নয়নে বলে ওঠে, আমাকে ছেড়ে দাও , আমি বাড়ি ফিরব ।

থেমে থেমে গোটা বাড়ি জুড়ে সবাই যেন একসাথে বলে ওঠে ” মুক্তি দাও, আমাদের মুক্তি দাও , আমরাও যে তোমার মতোই এই বাড়ি থেকে মুক্তি চেয়েছিলাম কিন্তু পাইনি।”

শিল্পী ভয়ে কান্নার সংমিশ্রণে ঘোরের মধ্যে জিজ্ঞাসা করে “তোমাদের মুক্তি …! আমি কিভাবে দেবো তোমাদের মুক্তি!” উত্তর আসে-
“কেন… বলিদান …নিজের প্রাণ উৎসর্গ কর আমাদের , বিয়ে করো আমাদের রাজ কুমারকে সদিচ্ছায়। তবেই তো পাবো নিস্তার আমরা। নইলে তোমার মত গ্রামের এক এক করে সব মেয়েদের গিলে ফেলবে এই বাড়ি ভালোবাসার সাক্ষী বলে ।” গমগমে আওয়াজটা থেমে যায়।

bengali horror story
bengali horror story

পুনরায় জ্ঞান হারায় শিল্পী । দুই দিন পর ওই কলঙ্কিত বাড়ি থেকে অর্ধমৃত অবস্থায় গ্রামের মানুষেরা উদ্ধার করে তাকে । অদ্ভুত ভাবে যেন অর্ধমৃত হয়েও বেঁচে ওঠে শিল্পী । তবে কয়েক মাস হাসপাতালে থাকার পরেও সেই ঝোঁক থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বেরিয়ে আসতে পারেনা ও । শেষমেশ তার বাবা মা তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনলে সে বারবার ওই কলঙ্কিত বাড়িতে গিয়ে সবাইকে মুক্তি দিতে হবে বলে, যখন তখন বেরিয়ে যেতে চায়।

শিল্পীকে সবাই পাগল বলেই গণ্য করে । শিল্পীর বাবা, মেয়ের এরূপ অবস্থা দেখে শেষমেশ গ্রামের মোড়লদের কথায় তাকে রেখে আসেন পাগলা গারদে। শিল্পীকে কেউ বোঝেনা, কেউই না।

পড়ুনঃ- ষ্টেশনের ভুতের গল্প 

শিল্পীর পরেও দু – এক জন মেয়েকে ওই বাড়িতে পাওয়া গেছে। তবে জীবিত নয়, মৃত অবস্থায় । বাড়িটিকে ভেঙে ফেলার ও অনেক চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু কেউ পেরে ওঠেনি। সর্বশেষ প্রয়াস করে ওই বাড়িটিতে বোম ব্লাস্ট করে ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু বাড়িটির কিছু ক্ষতি হয়নি । ক্ষতি হয়েছিল গ্রামবাসীদেরই। তাই সবাই ওই বাড়িকে এড়িয়ে চলে নিজেদের স্বার্থেই ।

এদিকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শিল্পী ওই বাড়িকে মুক্তি দিতে যাওয়ার কথা বলে, কিন্তু কিছুতেই লোহার কারাগার ভেদ করে সেই বাড়িতে পৌঁছতে পারে না । মুক্তি দিতেও পারেনা আবার নিজের মুক্তি ছিনিয়ে নিতেও পারেনা।

হয়তো কেউ না জানলেও শিল্পী জানে “ওই বাড়ির মুক্তির চাবিকাঠি !”

আলোরানি মিশ্র

রহস্যময় ভাবনায়-
© সমস্ত কপিরাইট ছাড়পত্র দ্বারা সংরক্ষিত। 
WhatsApp -এর মাধ্যমে গল্প পাঠানোর জন্য এখানে ক্লিক করুন। ইমেলের মাধ্যমে গল্প পাঠানোর জন্য- charpatrablog@gmail.com -এ মেইল করুন। 
আলোরানির যে লেখা গুলি আপনার পছন্দ হতে পারে- 

আধুনিক ছোট গল্প- ন্যায় 

একটি সতর্কতামূলক গল্প 

মধ্যবিত্ত ছেলেদের জীবনের গল্প 
এক ক্লিকেই ছাড়পত্রের সমস্ত আপডেট পেতে পারেন- 

ফেসবুক Group - গল্প Junction 

ফেসবুক- ছাড়পত্র

টেলিগ্রাম- charpatraOfficial

WhatsApp Group- ছাড়পত্র (২)

ভৌতিক গল্প। অভিশপ্ত বাড়ি। scary bengali horror story.


Spread the love

Leave a Reply