Spread the love

আধুনিক শিক্ষামূলক গল্প। আসক্তি মোবাইল ফোনের বিস্তারের সাথে সাথে নতুন একটি আসক্তি বর্তমান যুব প্রজন্মকে গ্রাস করেছে। এক অদ্ভুত নেশার ঘোরে দিন কাটে তাদের। আর এই নেশার কবলে হ্রাস পাচ্ছে তাদের চিন্তা শক্তি বিলুপ্তির পথে তাদের সৃজনশীলতা। ভাবছেন, কোন নেশার কথা বলছি! সেটি জানার জন্য অবশ্যই গল্পটির দিকে যেতে হবে।

আধুনিক শিক্ষামূলক গল্প:- “অশ্লীল আসক্তি!”

ঠাস করে একটা চড় মারে রোহনের গালে তার মা। 

“তুই আবার ওসব নোংরা ভিডিও দেখছিস, তোর কি এতটুকু শিক্ষা হবে না রোহন? তুই কি ভাবিস আমি কিছু বুঝতে পারছি না, দেখতে পারছি না বলে তুই তোর কাজ চালিয়ে যাবি আর মা কিছু টের পাবে না! আমি অনেক দিন ধরে তক্কে তক্কে ছিলাম কবে তোকে হাতে নাতে ধরব, আজ তো তোর রক্ষা নেই। তুই আর ফোন পাবি না। আমার কাছে থাকবে, তুই যদি অন্য কোনো ভাবে তোর কাজ চালাস তো তোর কপালে আরো দুঃখ আছে!”” 

রোহনের মা এই বলে ফোন নিয়ে রেগেমেগে চলে যায়। 

রোহনের পরিচয় দেওয়া যাক ।  রোহন একাদশ শ্রেণীর ছাত্র, বয়স ১৬ বছর , কিন্তু সে অশ্লীল ভিডিওর প্রতি এই বয়সেই সাংঘাতিক আসক্ত হয়ে পড়েছে। ক্রমাগত বাড়ছে সেই অভ্যাস। আগে অল্প করলেও এখন প্রায় রোজ রাতেই সে হস্তমৈথুন করে অশ্লীল ভিডিওর প্রভাবে। 

আধুনিক শিক্ষামূলক গল্প
আধুনিক শিক্ষামূলক গল্প

আর তার বন্ধুরা করে বলে সে এই কাজে আরো বেশি অনুপ্রেরণা ও সাহস পেয়েছে, আত্মবিশ্বাস পেয়েছে অশ্লীল অভ্যাসে অভ্যস্ত হতে। 

প্রথম দিন বন্ধুদের এসব করতে দেখে জানতে চেয়েছিল এই সম্বন্ধে।

বন্ধুরা অনেক এনজয়ের সাথে রোহন কে বলে, “আরে ইয়ার, এটা তো একটা দারুণ জিনিস! তুই এখনো এসব সম্পর্কে জানিসই না! তুই কোথায় পড়ে আছিস বুঝতে পারছিস! Porn, masturbation is too super. We get more experiences about sex and sexual life. শোন, তুই ছেলে হয়েছিস, তোকে কি এসব ব্যাখ্যা করে বলতে হবে রোহন?”  

-“তার মানে এগুলো করাই যায়? কোনো ক্ষতি হবে না তো আমার?” বলে রোহন। 

“দূর পাগল! ক্ষতি কেন হবে বরং তোর শরীর ও মন অনেক ভালো থাকবে, তুই অনেক energy gain করবি। আজ থেকেই শুরু করে দে।”  বন্ধুদের দলগত উৎসাহ রোহনের মনে আগ্রহের মাত্রাটা আলাদা ভাবেই বাড়িয়ে তোলে। 

সেদিন রাতে সে ফোন টা নিয়ে visit করে সেই website , যেখানে তার আকাঙ্খিত জিনিস আছে। প্রথম দেখার অনুভূতি আলাদাই ছিল। দেখতে দেখতে সে বিভোর হয়ে যাচ্ছে। আরো দেখতে ইচ্ছা করছে, আরো বীর্যপাত চাই।

মনের ও শরীরের উত্তেজনা তুঙ্গে। বুক ধড়ফড় করছে তার দেখতে দেখতে। ছুটে চলে যায় বাথরুমে। তার আকাঙ্খা বিসর্জন দেয় তার অসংখ্য বীর্য। সে ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে আর ফোন অফ করে ঘুমিয়ে পড়ে। 

পড়ুনঃ- বাস্তব জীবনের শিক্ষণীয় গল্প 

ব্যস্ তারপর দিন থেকে একটু একটু করে সময়ের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। আরো বেশি সময় ধরে তার এসব দেখতে ও অনুভব করতে ইচ্ছে করে এবং অবশেষে সেটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। আর এতোটাই তীব্র সে অভ্যাস যার ফলে সে সবসময় যৌনচিন্তায় মগ্ন থাকত। 

কল্পনার জগত থেকে বাস্তবে ইচ্ছা করত তা পুরণ করতে। তার সমবয়সী মেয়ে দেখলে এটা আরো বেশী করে মনে হয় তার।

মায়ের উপর খুব রাগ হচ্ছে রোহনের। মা এমন কেন করে সবসময়। চাকরি হোক নিজে একটা ফোন কিনবে তখন দেখবে আবার। 

কিন্তু সে তো অনেক দেরি, এখন কি করবে? 

চুপি চুপি উঠে মায়ের ঘরে যায় রোহন, মা ফোন টা কোথায় রেখেছে তা খুঁজে পায় না সে। রাগে, ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরে আসে নিজের ঘরে। কিছু ভালো লাগছে না তার। 

আসক্তি
আসক্তি

পরদিন খুব মেজাজ দেখিয়ে স্কুলে যায় সে। মা কোনো সাড়া শব্দ করে না। 

রোহন স্কুলের পড়ায় মন দিতে পারে না আগের মতো। স্যার খুব বকা দেন তাকে মাঝে মধ্যেই, কিন্তু রোহনের ভাল মতো মনে আছে সে আগে অনেক ভালো স্টুডেন্ট ছিল, ভালো পড়াশোনা করত । ইদানীং পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।  

বন্ধুরা কি হয়েছে জানতে চাইলে সে সবকিছু খুলে বলে। বন্ধুরা আশ্বাস দেয়। বলে “নো টেনশন ইয়ার, তুই রোজ বিকেলে মাঠে আসিস, একসাথে এনজয় করব। হ্যাঁ তুই হয়ত রাতে পারবি না কিন্তু আমাদের সাথে আলোচনা বা আমার সাথে দেখার আসরে জয়েন হতে আপত্তি কোথায়? কি আসবি তো তুই?”  

-“আচ্ছা ঠিক আছে আসব।”  

রোহন অপরাধীদের মতো মুখ করে বাড়ি ফেরে আর সারাক্ষণ চুপচাপ ই থাকে। মায়ের সাথে অনেক তর্ক, চিৎকার, ঝগড়া ঝাটি, অশান্তি করে কোনো লাভ হয়নি বলেই সে চুপচাপ হয়ে থাকে। 

তবে মা যতোই কড়া থাকুক বা ফোন কেড়ে নিয়ে নিজের কাছে রাখুক, অশ্লীল আসক্তি রোহনের কিছুতেই কমে না বরং আরো বেড়েই চলেছে। 

একাদশ শ্রেণীর রেজাল্ট খুব ভালো হয়না তার। 

তবে বন্ধুদের আলোচনা, বন্ধুদের অভিজ্ঞতা তাকে উদ্বুদ্ধ করত এইসব বাস্তবায়ন করতে । একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণী উতরে কলেজ গন্ডীতে পা রাখতেই একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক হয় রোহনের। 

সম্পর্ক ছয় মাস হতেই রোহন প্রস্তাব দেয় নীরাকে শারীরিক সম্পর্ক করার। নীরা রাগে অপমানে সেদিন এক চড় মারে রোহনের গালে। আর ক্ষিপ্র কন্ঠে বলে, “তুই এটা আমায় বলতে পারলি, তোর লজ্জা করল না একবারও, মুখে বাধল না তোর! ”  

-“তুই আমাকে চড় মারলি কেন?” 

-“বেশ করেছি। দরকার পড়লে আবার মারব। এই জন্যই মারব কারণ তুই এটা ভুল করছিস রোহন। এটা ঠিক নয়।” 

-“কেন ঠিক নয় শুনি?” 

-“তুই কি ওসব ভিডিও দেখিস, পর্ন ভিডিও?”  

নেশা নিয়ে গল্প
নেশা নিয়ে গল্প

-“হুম…তা দেখি বটে।”  মনে প্রচন্ড ব্যথা পায় নীরা। তবুও সামলে নিয়ে বলে, “তা তোর আমাকে কি মনে হয়?” 

-“কি আবার মনে হবে, আমার গার্ল ফ্রেন্ড।”  

-“তাই নাকি!” 

-“হ্যাঁ” । 

<

-“মিথ্যে কথা। শোন রোহন, আমি তোকে ভালো করে বোঝাচ্ছি, তুই ওসব পর্ন ভিডিও দেখা বন্ধ কর।”  

-“কেন? ওগুলো না দেখে আমি থাকবো কি করে?”  

-“নিজের মনকে কন্ট্রোল কর। ওসব দেখিস না।”  

-“ওগুলো সবাই দেখে। মেয়েরাও দেখে। আর ওগুলো দেখা শরীর ও মনের পক্ষে ভালো।”   

-“না ভালো নয়। দৃঢ় ভাবে বলে ওঠে নীরা।”  

-“তুই চুপ কর তো নীরা । চড়ের রাগটা ফেটে বেরোয় রোহনের।” 

-“তুই ভুল করছিস রোহন। তোকে দলগতভাবে ভুল পথে পাঠানো হয়েছে আমি বুঝতে পারছি। ওখান থেকে তোকে ভালো পথে আনা খুব কঠিন।”  

-“আচ্ছা তুই তখন থেকে যে বলছিস এসব দেখা খারাপ তা আমাকে একটু বোঝা কোথায় খারাপ? এত সন্ন্যাসিনী মাইন্ড কেন তোর?” 

-“শাট আপ রোহন…। আমি যা বলব চুপ করে শুধু শুনবি।  প্রথমত, স্কুল লাইফে তুই আগে পড়াশোনায় ভালো ছিলি, আর এখন মানে কলেজেও তুই অনেকটা কমিয়েছিস পড়াশোনা, ঠিক।

দ্বিতীয়ত, তুই আগে মনে অনেক জোর পেতিস কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আর এখন তোর আগ্ৰহ একটা জায়গাতেই আটকে, ঠিক!


পড়ুনঃ- 
আধুনিক ছোট গল্প- ন্যায় 

উপদেশ মূলক গল্প 

সুন্দর প্রেরণা মূলক গল্প 

তৃতীয়ত, তুই নিশ্চয়ই এখন স্মৃতিশক্তির দিক থেকে দূর্বল হয়ে গেছিস। আর মেয়েদের দেখলেই তোর খারাপ দিকগুলো জেগে ওঠে? তুই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছিস যে কিছু একটা না পেলে তুই মরে যাওয়ার মতো অনুভূতি ভোগ করিস? 

শোন তবে, প্রত্যেকটা জিনিসের ভালো আর খারাপ দুটো দিক থাকে। তবে কম বেশি। পর্ন ভিডিও দেখেই তুই আমার সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছিস আমি জানি। আজ তোকে আমার সত্যি সত্যি কিছু কথা বলার আছে। 

স্বামী বিবেকানন্দ বা এ.পি.জে আব্দুল কালাম বা শ্রীরামকৃষ্ণ দেব বা ঋষি অরবিন্দ এঁদের মতো মানুষ দের দেখেছিস তো, কথাও পড়েছিস, এঁদের আদর্শ সমস্ত কিছুই। তুই কি জানিস এঁরা কেন এতটা শক্তিশালী , কেন এঁদের আত্মা এত উপরে আছে?”

-“না।”  

-“তোরা যারা বলিস না যে, হস্তমৈথুন খুব ভালো একটা কাজ তাদের জন্য একটাই কথা একবাক্যে বলা চলে তোরা উত্তমাঙ্গ অপেক্ষা যৌনাঙ্গ কে বেশি প্রাধান্য দিস। এইসব মনীষীরা অহেতুক কেন, কোনোসময়তেই বীর্য ক্ষয় করতেন না উপরন্তু সেই বীর্য জাত শক্তি মস্তিষ্কের কাজে ব্যবহার করতেন জন মঙ্গলার্থে, জনস্বার্থে। কিন্তু বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম কে দেখ, শুধু মাত্র  নিজস্বার্থে এত নীচে নামছে যে আর নামার জায়গাই হয়ত থাকবে না ।”

রোহন খুব অধৈর্য হয়ে বলে, “শুরু হয়ে গেল তোর জ্ঞানের কথাবার্তা বল!”  

-“এগুলো জ্ঞান নয়, বাস্তব সত্য। শোন রোহন তুই যেই পর্ণ দেখছিস সেগুলো কোনোটাই বাস্তব নয়। ওগুলো Artificial, imagination. আচ্ছা একটা কথা বলতো, তুই ঈশ্বরের গল্প পড়ে কল্পনা করতে পারিস না। পাঠ্য বইয়ে কোনো গল্প পড়ে কল্পনা করতে পারিস না, তাহলে ঐ ভিডিও দেখে কল্পনা করতে পারিস কি করে আর ভেবে দেখ তুই ঐ ভিডিও দেখে এতটাই কল্পনা করতে পারিস যাতে তোর শুধু শরীর নয়, মনটাও নোংরা হয়ে যাচ্ছে। খারাপ কে কেন জিতিয়ে দিচ্ছিস তুই। ভালো কে হারিয়ে দিচ্ছিস। এটা তুই ঠিক করছিস না রে।” 

-“শোন তোর জ্ঞান দেওয়া কথাবার্তা আমার ভালো লাগছে না আমি যাচ্ছি।” এই বলে রোহন চলে যায়। 

নীরা হাল ছাড়ে না। সে একটু একটু করে বোঝায় তাকে রোজ। রোহন রেগে যাচ্ছে , অপছন্দ করছে জেনেও নীরা তার বোঝানো বন্ধ করে না। 

-“তোর পড়াশোনা আরো খারাপ হয়ে যাবে দেখিস। তোর রুচিবোধ নীচের দিকে চলে যাচ্ছে, যাবে আরো। তোর শরীরের ও মনের একটা চরম ক্ষতি হচ্ছে তুই সেটা বুঝতে পারছিস না। তুই যেটা ভাবিস যে খুব ভালো লাগছে সেটা আসলে একটা কাল্পনিক, বাস্তবের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তোর ঐ বন্ধুগুলো তোকে পুরো খারাপ করে দিয়েছে। তাই আজ তুই না শুনিস শাসন, না শুনছিস বারণ।”  

-“এই আমি তোর সাথে ব্রেক আপ করে দেবো নীরা বুঝেছিস। তুই এত জ্ঞান দিলে সত্যি তোর সাথে থাকা সম্ভব নয়।” 

নীরা রোহনের মেজাজ দেখে আশ্চর্য হয়। কি করে একে অশ্লীল আসক্তি অর্থাৎ Porn Addiction থেকে বার করবে? না বকে, মেরে লাভ নেই বরং আরো বিগড়ে যাবে। যা করতে হবে ভালোবেসে, যত্ন করে। বিষ দিয়ে বিষ তুলতে হবে। তাই নীরা রোহনের পছন্দ মতো সমস্ত কাজ করতে লাগলো। এমনকি পর্ন ভিডিও দেখা নিয়ে পর্যন্ত আপত্তি করে না। 

রোহন খুব খুশি হয় প্রথম ক’দিন কিন্তু তারপর তার মনে একটু নাড়া দেয় নীরার জন্য। মেয়েটা তো এসব পছন্দ করে না তাহলে হঠাৎ করে কি হলো ? 

পরমুহুর্তেই ভাবল যাক গে যাক আমার কি! কিন্তু না তবুও মনে তাড়া করে বেড়াচ্ছে নীরার পরিবর্তন টা। একদিন সে জানতে চায় কি হয়েছে নীরার, নীরা বলে, কৈ কিছু হয়নি তো। 

-“আমার উপর রাগ করে আছিস?” 

-“না তো”

-“তাহলে তুই হঠাৎ করে আমার মতো এসব ভিডিও দেখা শুরু করলি , আমাকেও বারণ করছিস না , কেন?” 

-“আমি দেখলাম আমার কথার কোনো দাম নেই তোর কাছে । তা তোর কাছে আমার কথার দাম নেই বলে আমার কাছে তো তোর ইচ্ছা অনিচ্ছা সস্তা হতে পারে না, তাই আমিও তোর মতো হয়ে গেছি। দেখ না আমিও এখন তোর মতো পর্ন ভিডিও দেখি!”  


পড়ুনঃ- 
গল্পের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা 

সেরা দুটি শিক্ষণীয় ঘটনা 

প্রেমিকার মুখে এই কথাটা শুনে কেমন যেন নিজেকে অপরাধী মনে হলো রোহনের। সে কি তাহলে সত্যিই ভুল করছে? ভুল নয়, বড় ভুল! একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে রোহন। মাও তো তাকে অনেক বারণ করত কিন্তু তবুও সে ছাড়েনি লুকিয়ে দেখেছে। এখন নীরাও বারণ করতে করতে ছেড়ে দিয়েছে। তাহলে কি সত্যিই খারাপ এগুলোর সংস্পর্শে থাকা?

-“কি রে, কি ভাবছিস রোহন?” রোহনের ভাবনায় বাধা দিয়ে বলে ওঠে নীরা। 

থতমত খেয়ে রোহন বলে, “না না কিছু না।” এই বলে উঠে দাঁড়ায় রোহন। 

-“শোন আমি আজ আসলাম বুঝলি। পৌঁছে তোকে জানিয়ে দেবো, তুই সাবধানে যাস নীরা।” 

-“এখনই এত তাড়াতাড়ি চলে যাবি, কেন?”

-“না রে, আমার ভালো লাগছে না আজ। বাড়ি যাবো। মাথা টা ঝিমঝিম করছে। আসলাম বুঝলি, তুই সাবধানে বাড়ি যাস।” 

নীরা কিছু একটা আন্দাজ করেই বলে, “আচ্ছা ঠিক আছে, তুইও সাবধানে যাস।” 

রোহন বাড়ি ফিরে হাতমুখ ধুয়ে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। একা থাকতে হবে তাকে কিছুক্ষণ। মনটা কেমন যেন অস্বাভাবিক রকম অস্থির হয়ে গেছে। খারাপ এর অস্তিত্ব কি সত্যিই তার মন কে গ্ৰাস করে ফেলেছে? নীরার বলা কথাগুলো বারবার ভাবতে থাকে সে। 

পরদিন সেই পুরোনো বন্ধুমহলে দেখা করবে বলে ঠিক করে রোহন। তবে দেখা হয় না সেদিন কিন্তু দেখা করার পরিকল্পনা করে আসে। তাই কথামতো সেদিনই যায়। 

-“কি রে রোহন তোর খবর কি? কেমন আছিস বল?” 

-“আমি ভালো ছিলাম না এতদিন তবে এখন ভালো আছি।” 

-“মানে? এতদিন ভালো ছিলিস না মানে টা কি?” 

-“হুম এতদিন তোদের জন্য নোংরা মনের ও বিকৃত মস্তিষ্কের ছিলাম আমি। খারাপ হয়ে যাচ্ছিলাম। সাময়িক উত্তেজনা আমার শরীর ও মনের চরম ক্ষতি করে দিয়েছে এতদিনে তবুও আমি বুঝতে পারি নি এতদিন কিছুই। এই সদ্য কয়েকদিনের উপলব্ধি আমার জীবন বদলে দিয়েছে।” 

সচেতনতা মূলক গল্প
সচেতনতা মূলক গল্প

-“তোর কথা আমরা কিছু বুঝতে পারছি না রোহন। ঠিক করে বল কি বলতে চাইছিস?” 

-“তোরা বন্ধু নামের জানোয়ার একেকটা। তোরা আমার মনটা কে নোংরা করে দিয়েছিস। আমার চিন্তাধারা, রুচিবোধ সব নিম্নমানের হয়ে গেছিল। আমি মাতৃজাতি মেয়েদের সম্মানের চোখে তোদের কারণে দেখতে পারিনি এতদিন!” 

-“এছাড়াও আমি আমার মা কে কষ্ট দিয়েছি। আমার পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। সবদিক থেকে বিধ্বস্ত হয়েছি আমি ঐ মিনিট কয়েকের কাল্পনিক উত্তেজনায় উত্তেজিত হয়ে! ছিঃ নিজেকে ধিক যে তোদের কথায় আমি নিজের সত্ত্বা হারিয়েছি।” 

-“আমি জানি এই উপলব্ধি সবার আসে না । আবার কয়েকজনের আসে হয়ত অনেক দেরি হয়ে যায় তখন। তবে আমার জীবনে নীরা না এলে হয়ত আমিও…।”  

-“তোদের কাছে গার্ল ফ্রেন্ড মানে যা ছিল আমার কাছেও ঠিক তাই ছিল জানিস। কিন্তু এখন আমি তোদের থেকে মানসিক ও দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে ভিন্ন। আমার কাছে গার্ল ফ্রেন্ডের সংজ্ঞা এখন বদলে গেছে।” 

-“ভালো হওয়ার চেষ্টা কর। নিজেকে বদলা। নাহলে আমাদের এই তরুণ প্রজন্মের অবনতির কারণে গোটা সমাজ, দেশ , বিশ্বই অশ্লীল আসক্তি তে আচ্ছাদিত হবে।।”  

সুস্মিতা গোস্বামী

– সচেতনতার বার্তায়
গল্প পাঠাতে পারেন- charpatrablog@gmail.com -এ, অথবা WhatsApp এ গল্প পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন। 
সুস্মিতার যে লেখা গুলি আপনার পছন্দ হতে পারে- 
একটি শিক্ষণীয় গল্প- মানবিকতা 

মজার ভুতের গল্প 

বাস্তবিক গল্প- আত্মহত্যা 
আমাদের সাথে যুক্ত হবেন যেভাবে- 

ফেসবুক Group - গল্প Junction 

ফেসবুক- ছাড়পত্র

টেলিগ্রাম- charpatraOfficial

WhatsApp Group- ছাড়পত্র (২)

আধুনিক শিক্ষামূলক গল্প। আসক্তি। নেশা নিয়ে গল্প। যুব প্রজন্মের জন্য সচেতনতা মূলক গল্প। bengali life changing story.


Spread the love

Leave a Reply