sera goyenda golpo. সেরা গোয়েন্দা গল্প। ব্যোমকেশ। রহস্য। 1 best bengai detective story.

Spread the love

গোয়েন্দা গল্প যুব সমাজের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তাই আজ থাকছে একটি sera goyenda golpo। এই সেরা গোয়েন্দা গল্পটির মূল কেন্দ্রে রয়েছেন- ব্যোমকেশ। কিভাবে তিনি অপরাধীর জাল ভেদ করেছেন তারই রহস্য রয়েছে এই গল্পটিতে। এই গল্পটির লেখক হলেন- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।

sera goyenda golpo- রহস্য- লোহার বিস্কুট রহস্যঃ-

কমলবাবু বললেন, ‘আমি আপনার পাড়াতেই থাকি, হিন্দুস্থান পার্কের কিনারায়। আপনাকে অনেকবার দেখেছি, আলাপ করবার ইচ্ছে হয়েছে কিন্তু সাহস হয়নি। আজ একটা সূত্র পেয়েছি, তাই ভাবলাম এই ছুতোয় আলাপটা করে নিই। আমার জীবনে একটি ছোটো সমস্যা এসেছে।

‘সমস্যা!’ ব্যোমকেশ সিগারেটের কৌটো এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘বলুন বলুন, অনেকদিন ও বস্তুর মুখদর্শন করিনি।’

গ্রীষ্মের একটি রবিবার সকালে ব্যোমকেশের কেয়াতলার বাড়িতে বসে কথা হচ্ছিল। কমলবাবুর চেহারাটি নাড়ুগোপালের মতো, কিন্তু মুখের ভাব চটপটে বুদ্ধিসমৃদ্ধ। তিনি হাসিমুখে একটি সিগারেট নিয়ে ধরালেন, তারপর গল্প আরম্ভ করলেন, ‘আমার নাম কমলকৃষ্ণ দাস, কাছেই ভারত কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের শাখা আছে, আমি সেখানকার ক্যাশিয়ার। বছর দেড়েক আগে পুরুলিয়া থেকে বদলি হয়ে এখানে এসেছি।

‘কলকাতায় এসেই মুশকিলে পড়ে গেলাম; কোথাও বাসা খুঁজে পাই না। শেষ পর্যন্ত একটি লোক তার বাড়ির নীচের তলায় একটি ঘর ছেড়ে দিল। ফ্যামিলি আনা হল না, স্ত্রী আর মেয়েকে পুরুলিয়ায় রেখে একলা বাসায় উঠলাম।

‘বাড়িওয়ালার নাম অক্ষয় মণ্ডল। বাড়িটি দোতলা; নীচের তলায় দুটি ঘর, ওপরে দুটি; যাতায়াতের রাস্তা আলাদা। অক্ষয় মণ্ডল দোতলায় একলা থাকে, কিন্তু তার কাছে লোকজনের যাতায়াত আছে। মিষ্টভাষী লোক, কিন্তু কী কাজ করে বুঝতে পারলাম না। মাঝে মাঝে আমার ঘরে এসে গল্পসল্প করত, কিন্তু আমাকে কোনোদিন দোতলায় ডাকত না। পড়শিদের সঙ্গেও যাতায়াত ছিল না। আমাদের ব্যাংকে ওর একটা চালু খাতা ছিল।

যাহোক, এইভাবে মাস তিনেক কাটার পর একদিন একটা ছুটির দিনে আমার অফিসের একজন সহকর্মী বন্ধুর বাড়িতে রাত্রে নেমন্তন্ন ছিল। ফিরতে রাত হয়ে গেল। বাসায় ফিরে দেখি অক্ষয় মণ্ডল দোতলা থেকে নেমে এসে সিঁড়ির দরজায় তাল লাগাচ্ছে, তার পায়ের দুপাশে দুটি সুটকেশ। বললাম, “এ কী, এত রাত্রে কোথায় চললেন?”

‘আমায় দেখে অক্ষয় মণ্ডল কেমন হকচকিয়ে গেল; তারপর সুটকেশ দুটো দুহাতে নিয়ে আমার কাছে এসে দাঁড়াল, একটু গাঢ় গলায় বলল, “কমলবাবু, আমাকে বাইরে যেতে হচ্ছে। কবে ফিরব কিছু ঠিক নেই।”

‘দেখলাম তার চোখ দুটো লাল হয়ে রয়েছে। বললাম, “সে কী, কোথায় যাচ্ছেন।”
তার মুখে হাসির মতো একটা ভাব ফুটে উঠল। সে বলল, “অনেক দূর। আচ্ছা, চলি।”

আমি অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। সে কয়েক পা গিয়ে থমকে দাঁড়াল, তারপর ফিরে এসে বলল, “কমলবাবু, আপনি সজ্জন মানুষ, ব্যাংকে চাকরি করেন; আপনাকে একটা কথা বলে যাই। সাত দিনের মধ্যে আমি যদি ফিরে না আসি, আপনি আমার পুরো বাড়িটা দখল করবেন। আপনাদের ব্যাংকে আমার অ্যাকাউন্ট আছে, মাসে মাসে দেড়শো টাকা ভাড়া আমার খাতায় জমা দেবেন।-আচ্ছা।”

অক্ষয় মণ্ডল চলে গেল। আমি স্তম্ভিত হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর বিস্ময়ের চটকা ভেঙে খেয়াল হল, অক্ষয় মণ্ডল তার দোরের চাবি আমাকে দিয়ে যায়নি।

সে যাহোক, আস্ত বাড়িটা পাওয়া যেতে পারে এই আশায় মন উৎফুল্ল হয়ে উঠল। মনে হল অক্ষয় মণ্ডল অগস্ত্য যাত্রা করেছে, আর শিগ্‌গির ফিরবে না।

পরদিন সকালে স্ত্রীকে চিঠি লিখে দিলাম—সংসার গুটিয়ে তৈরি থাকো, বাসা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আশায় আশায় দুটো দিন কেটে গেল। তিন দিনের দিন গন্ধ বেরুতে আরম্ভ করল। বিকট গন্ধ, মড়া-পচা গন্ধ। গরমের দিনে মাছ মাংস পচে গিয়ে যে-রকম গন্ধ বেরোয় সেই রকম গন্ধ আসছে।

সন্দেহ হল, পুলিশে খবর দিলাম। পুলিশ এসে তালা ভেঙে উপরে উঠল। আমিও সঙ্গে সঙ্গে গেলাম। গিয়ে দেখি বীভৎস কান্ড। ঘরের মেঝের ওপর একটা মড়া হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে আছে, তার কপালে একটা ফুটো। সে-রাত্রে আমি যখন নেমন্তন্ন খেতে গিয়েছিলাম, সেই সময় অক্ষয় মণ্ডল লোকটাকে গুলি করেছে, তারপর নামি জিনিসপত্র টাকাকড়ি সুটকেশে পুরে নিয়ে কেটে পড়েছে।

দেখতে দেখতে একপাল পুলিশ এসে বাড়ি ঘিরে ফেলল। লাশ ময়না তদন্তের জন্যে পাঠানো হল। দারোগাবাবু আমাকে জেরা করলেন। তারপর খানাতল্লাশ আরম্ভ হল। নিরপেক্ষ সাক্ষ্য হিসেবে পাড়ার একটি ভদ্রলোক এবং আমি সঙ্গে রইলাম।

খানাতল্লাশে কিন্তু বিশেষ কিছু পাওয়া গেল না। কেবল একটা দেয়াজের মধ্যে কয়েকটা লোহার পাত দিয়ে তৈরি কৌটোর মতো জিনিস পাওয়া গেল; সিগারেটের প্যাকেটে রুপোলি তবকের মধ্যে যেমন সিগারেট মোড়া থাকে, অনেকটা সেই রকম লম্বাটে ধরনের তরক, খুব পাতলা লোহা দিয়ে তৈরি, কিন্তু তার অভ্যন্তর ভাগ শূন্য। দারোগাবাবু সেগুলো নিয়ে চিন্তিতভাবে নাড়াচাড়া করলেন, কিন্তু হালকা লোহার মোড়ক কোন্ কাজে লাগে বোঝা গেল না।

যাহোক, সেদিনকার মতো তদন্ত শেষ হল, পুলিশ চলে গেল। আমার মনে কিন্তু অস্বস্তি লেগে রইল। তিন-চার দিন পরে থানায় গেলাম। সেখানে গিয়ে খবর পেলাম। মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা গেছে; আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য দৈহিক চিহ্ন থেকে প্রকাশ পেয়েছে যে মৃত ব্যক্তির নাম হরিহর সিং, দাগি আসামি ছিল, মাদকদ্রব্য এবং সোনারূপোর চোরাকারবার করত। অক্ষয় মণ্ডলের সঙ্গে কোন্ সূত্রে তার যাতায়াত ছিল, তা জানা যায়নি। অক্ষয় মণ্ডলের নামে হুলিয়া জারি হয়েছে; কিন্তু সে এখনও ধরা পড়েনি, কর্পূরের মতো উবে গেছে।

থানা থেকে ফেরার সময় ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করলাম, “পুরো বাড়িটা তাহলে আমি দখল করতে পারি?” দারোগাবাবু বললেন, “স্বচ্ছন্দে। আসামি যখন ফেরার হবার আগে আপনাকে তার বাড়ির হেপাজতে রেখে গেছে, তখন আপনি থাকবেন বইকি। তবে একটা কথা, যদি আসামির সাড়াশব্দ পান, তৎক্ষণাৎ থানায় খবর দেবেন।”

তারপর প্রায় বছরখানেক ভারি আরামে কেটেছে। স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে এলাম, সারা বাড়িটা দখল করে দিব্যি হাত-পা ছড়িয়ে বাস করছি। বাড়ির ভাড়া মাসে মাসে অক্ষয় মণ্ডলের খাতায় জমা করে দিই। তার টেবিল চেয়ার ইত্যাদি ব্যবহার করি ঠিকই, কিন্তু আলমারি, বাক্স, কাবার্ডে হাত দিই না, পুলিশ খানাতল্লাশ করার পর যেমনটি ছিল তেমনি আছে।

গোয়েন্দা গল্প
গোয়েন্দা গল্প রহস্যময় গল্প

হঠাৎ মাস দুই আগে এক ফ্যাসাদ উপস্থিত হল। সকালবেলা নীচের ঘরে বসে কাগজ পড়ছি, একজন অপরিচিত লোক এল, তার সঙ্গে একটি স্ত্রীলোক। ভদ্রশ্রেণির মধ্যবয়স্ক পুরুষ, স্ত্রীলোকটি সধবা। পুরুষ স্ত্রীলোকটির দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, “এ হচ্ছে অক্ষয় মণ্ডলের স্ত্রী, আমি ওর বড়ো ভাই। এতদিন আমি ওকে পুষেছি, কিন্তু আর আমার পোষবার ক্ষমতা নেই। এবার ও স্বামীর বাড়িতে থাকবে। আপনাকে বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে।”

মাথায় বজ্রাঘাত। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলাম। তারপর বুদ্ধি গজাল, “অক্ষয় বাবুর স্ত্রী আছেন, তা কোনোদিন শুনিনি। যদি আপনার কথা সত্যি হয়, আপনি আদালতে গিয়ে নিজের দাবি প্রমাণ করুন, তারপর দেখা যাবে।”

“কিছুক্ষণ বকাবকি কথা কাটাকাটির পর তারা চলে গেল। আমার সন্দেহ হল। এরা দাগাবাজ জোচ্চোর, ছলছুতো করে বাড়িটা দখল করে বসতে চায়। আজকাল বাসা-বাড়ির যে রকম ভাড়া দাঁড়িয়েছে, ফোকটে বাসা পেলে কে ছাড়ে।

থানায় গিয়ে খবরটা জানিয়ে এলাম। দারোগাবাবু বললেন, “অক্ষয় মণ্ডলের স্ত্রী আছে কিনা আমাদের জানা নেই। যাহোক, যদি আবার আসে, ছলছুতো করে সঙ্গে নিয়ে আসবেন। আমরাও বাড়ির ওপর নজর রাখব।” আমার পিস্তল আছে, তাছাড়া একটা কুকুর পুষেছি। হিংস্র পাহাড়ি কুকুর, নাম ভূটো; আমার হাতে ছাড়া কারুর হাতে খায় না। আমি ব্যাংকে যাবার সময় তার শেকল ছেড়ে দিয়ে যাই। বাড়িতে চোর-ছ্যাচড় ঢোকার ভয় নেই, ভুট্টো তাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। তবুও ঘটনার পর মনে একটা অস্বস্তি লেগে রইল। অক্ষয় মণ্ডল লোক ভালো নয়, হয়তো নিজে আড়ালে থেকে কোনো কুটিল খেলা খেলছে।

“দিন দশেক পরে একখানা বেনামি চিঠি পেলাম, “পাড়া ছেড়ে চলে যাও, নইলে বিপদে পড়বে।”—পাড়া মানেই বাড়ি। থানায় গিয়ে চিঠি দেখালাম। দারোগাবাবু বললেন, “চেপে বসে থাকুন, নড়বেন না আপনার বাসার ওপর পাহারা বাড়িয়ে দিচ্ছি।”

তারপর থেকে এই দেড় মাস আর কেউ আসেনি, উড়ো চিঠিও পাঠায়নি। এখন বেশ নিরাপদ বোধ করছি। কিন্তু একটি সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্যেই আপনার কাছে আসা। দারোগাবাবুর কাছে যেতে পারতাম, কিন্তু তিনি হয়তো এমন উপদেশ দিতেন যা আমাদের পছন্দ হত না।

ব্যাপারটা এই, ব্যাংক থেকে আমার এক মাসের ছুটি পাওনা হয়েছে। আমার স্ত্রীর অনেক দিন থেকে তীর্থে যাবার ইচ্ছে। হরিদ্বার, হৃষিকেশ এইসব। ব্যাংকের একটি সহকর্মীও আমার সঙ্গেই ছুটি নিয়ে কুণ্ডু স্পেশালে বেড়াতে বেরুচ্ছেন, আমাকেও তিনি সঙ্গে যাবার জন্যে চাপাচাপি করছেন। দল বেঁধে গেলে অনেক সুবিধে হয়।

আমার স্ত্রী খুব উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন। আমার উৎসাহও কম নয়। কিন্তু— যেতে হলে বাড়িতে তালা বন্ধ করে যেতে হবে। ভুটোকে মাসখানেকের জন্যে একটা কেনেলে ভরতি করে দিতে হবে। বাড়িটা অরক্ষিত থাকবে। মনে করুন, এই ফাঁকে অক্ষয় মণ্ডলের বউ—মানে ওই স্ত্রীলোকটা যদি তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে বাড়ি দখল করে বসে, তখন আমি কী করব? অক্ষয় মণ্ডলের মৌখিক অনুমতি ছাড়া আমার দেবার কোনো হক নেই। তবে আমি দখলে আছি, আমাকে বেদখল করতে হলে ওদের আদালতে যেতে হবে। কিন্তু ওরা যদি দখল নিয়ে বসে, তখন আমি কোথায় যাব?

bangla goyenda golpo
bangla goyenda golpo

এই আমার সমস্যা। নিতান্তই ঘরোয়া সমস্যা। আপনার নিরীক্ষার উপযুক্ত নয়। রথ দেখা আর কলা-বেচা দুই-ই হবে, এই মতলবে আপনার কাছে এসেছি। এখন বলুন, বাড়িখানি রেখে আমাদের তীর্থযাত্রা করা উচিত হবে কি না!

ব্যোমকেশ খানিকক্ষণ গালে হাত দিয়ে বসে রইল, শেষে বলল, আপনাদের তীর্থযাত্রায় বাধা দিলে পাপ হবে, আবার বাড়িটা বেহাত হয়ে যাওয়াও বাঞ্ছনীয় নয়। আপনার জানাশোনার মধ্যে এমন মজবুত লোক কি কেউ নেই, যাকে বাড়িতে বসিয়ে “কই, সে রকম কাউকে তো দেখছি না। সকলেরই বাসা আছে। যাদের নেই। তাদের বসাতে সাহস হয় না, শেষে খাল কেটে কুমীর আনব।” “তাহলে চলুন, আপনার বাসাটা দেখে আসি। ব্যোমকেশ উঠে দাঁড়াল। কমলবাবু উৎফুল্ল চোখে চাইলেন, “যাবেন। কী সৌভাগ্য। চলুন, চলুন, বেশি দূর নয় ”
“একটু বসুন। বেশি দূর না হলেও রোদ বেশ কড়া। একটা ছাতা নিয়ে আসি।”

ব্যোমকেশ ভিতরে গিয়ে ছাতা নিয়ে এল। ছাতাটি ব্যোমকেশের প্রিয় ছাতা: অতিশয় জীর্ণ, লোহার বাঁট এবং কামানিতে মরচে ধরেছে, কাপড় বিবর্ণ এবং বহু ছিদ্রযুক্ত। এই ছাতা মাথায় দিয়ে রাস্তায় বেরুলে নিজে অদৃশ্য থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অনুসরণ করা যায়। ফুটো দিয়ে বাইরের লোককে দেখা যায়, কিন্তু বাইরের লোক ছাতাধারীর মুখ দেখতে পায় না। সত্যান্বেষীর উপযুক্ত ছাতা।

“চলুন।”

কমলবাবুর বাসা ব্যোমকেশের বাড়ি থেকে মিনিট পাঁচেকের রাস্তা। মাঝে মাঝে এ পথ দিয়ে যাবার সময় বাড়িটি ব্যোমকেশের চোখে পড়েছে; ছোটো দোতলা বাড়ি, কিন্তু একটি বিশেষত্বের জন্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করে; সমস্ত ছাদ লোহার ডান্ডা-হতরি দিয়ে ঢাকা, যেন প্রকাণ্ড একটা লোহার খাঁচা। বাইরে থেকে কোনো মতেই ছাদে ওঠা সম্ভব নয়।

‘আসুন।’

পড়ুনঃ- ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প-বদলা 

ছাতা মুড়ে ব্যোমকেশ বাড়িতে ঢুকল। কমলবাবু প্রথমে তাকে নীচের তলার বসবার ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে একটি শতরঙি-ঢাকা তক্তপোশ ও দুটি ক্যাম্বিসের চেয়ার ছাড়া আর বিশেষ কিছু নেই। ব্যোমকেশ ঘরের চারিদিকে চোখ ফেরাল। সে যেন একটা সূত্র খুঁজছে, কিন্তু এই নগ্নপ্রায় ঘরে কোনো অঙ্গুলিনির্দেশ পাওয়া গেল না। সে বলল, “নীচের তলায় আর একটা ঘর আছে, না?”

“আছে। ঘরটা অক্ষয় মণ্ডলের আমলে ব্যবহার হত না, আমি ওটা রান্নাঘর করেছি। দেখবেন।”

“দরকার নেই। আপনার স্ত্রী বোধ হয় এখন রান্নাবান্না করছে। চলুন, ওপর-তলাটা দেখা যাক।”

‘আসুন।’

ঘরের লাগাও একটা সরু বারান্দার শেষে ওপরে ওঠার সিঁড়ি, সিঁড়ির মাথায় দরজা। দরজার মাথার উপরের দেয়ালে ঘোড়ার ক্ষুরের নালের মতো লোহার একটা জিনিস তিনটে পেরেকের মাঝখানে আটকানো রয়েছে। ব্যোমকেশ সেই দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ছাতা তুলে সেইদিকে নির্দেশ করে বলল, ‘ওটা কী?’ ‘ওটা ঘোড়ার নাল। বিলিতি কুসংস্কার অনুযায়ী দোরের মাথায় ঘোড়ার নাল টানিয়ে রাখলে নাকি অনেক টাকা হয়।

ব্যোমকেশের ছাতার ডগা ঘোড়ার নালে আটকে গিয়েছিল, সে টেনে সেটা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, “এটা কি আপনি লাগিয়েছেন নাকি?”

সেরা গোয়েন্দা গল্প রহস্য
সেরা গোয়েন্দা গল্প রহস্য

“না, অক্ষয় মণ্ডলের আমল থেকে আছে।”

ব্যোমকেশ ঘোড়ার নালের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন স্বপ্নাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।

কমলবাবু ডাকলেন, “ভেতরে আসুন।”
ঘরের ভিতর কমলবাবুর দশ বছরের মেয়ে মেঝেয় মাদুর পেতে বসে লেখাপড়া করছিল, তার কাছে মাদুরের বাইরে একটা ভীষণদর্শন কুকুর থাবা পেতে বসেছিল, ব্যোমকেশের পানে মণিহীন নীলাভ চোখ তুলে চাইল। কমলবাবু বললেন, “খুকু, যাও তোমার মাকে চা তৈরি করতে বল, আর কিছু ভাজাভুজি।

ব্যোমকেশ একটু আপত্তি করল, কিন্তু কমলবাবু শুনলেন না। খুকু নীচে চলে গেল, ভুটো সঙ্গে সঙ্গে গেল। অতঃপর ব্যোমকেশ ঘরটি চক্ষু দিয়ে সমীক্ষা করল। বলল, “এ ঘরে অক্ষয় মণ্ডলের কোনো আসবাবপত্র আছে?”

কমলবাবু বললেন, “ছিল, আমি পাশের ঘরে নিয়ে গেছি। খাট এবং একটা দেরাজওয়ালা টেবিল। এই যে, পাশের ঘরটি অপেক্ষাকৃত বড়ো, জানলার দিকে খাট, অন্য কোণে টেবিল। ব্যোমবেশ টেবিলের কাছে গিয়ে বলল, “সেই যে পুলিশের খানাতল্লাশে লোহার মোড়ক পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলো কি পুলিশ নিয়ে গিয়েছে?” “একটা মোড়ক পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল, বাকিগুলো দেরাজে আছে।” কমলবাবু নীচের দিকের একটা দেরাজ খুলে বললেন, “এই যে!” দেরাজের পিছন দিকে কয়েকটা মোড়ক পড়ে ছিল, ব্যোমকেশ একটা বের করে নেড়েচেড়ে দেখল। আকৃতি-প্রকৃতি সিগারেট প্যাকেটের অভ্যন্তরস্থ তবকের মতোই বটে। সেটা রেখে দিয়ে হাসিমুখে বলল, ‘ভারি মজার জিনিস তো! এর ভেতর গোটা দুই বিস্কুট রেখে সুতো দিয়ে বেঁধে দিলে নিশ্চিন্তি। চলুন, এবার ছাদটা দেখে আসা যাক।”

“ছাদে কিন্তু কিছু নেই।”

“তা হোক। শূন্যতাই হয়তো অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।”

“তাহলে আসুন।”

ছাদে সত্যিই কিছু নেই। লোহার ঘেরাটোপ ঢাকা ছাদটা বাঘের শূন্য খাঁচার মতো দাঁড়িয়ে আছে। এক কোণে উঁচু পাদপীঠের ওপর লাল রঙের লোহার চৌবাচ্চা; এই চৌবাচ্চা থেকে বাড়িতে কলের জল সরবরাহ হয়। ব্যোমকেশ ছাদের চারিদিক সন্ধিৎসুভাবে পরিক্রমণ করে বলল, “ছাদটা আপনারা ব্যবহার করেন না?”

কমলবাবু বললেন, “বেশি গরম পড়লে ছাদে এসে শুই। বেশ নিরাপদ জায়গা, চোর ঢুকবে সে উপায় নেই।”

sera goyenda golpo
sera goyenda golpo

“চলুন, আমার দেখা শেষ হয়েছে।”

নীচে নেমে এলে পর খুকু এসে বলল, “বাবা, বসবার ঘরে চা দিয়েছি।”

নীচের তলায় ঘরে পাঁপড় ভাজা ও গরম বেগুনি সহযোগে চা পান করতে করতে ব্যোমকেশ বলল “থানার যে দারোগাবাবুর কাছে আপনার যাওয়া-আসা, তাঁর নাম কী?”
কমলবাবু বললেন, তাঁর নাম রাখাল সরকার।

ব্যোমকেশ মুচকি হাসল। চা শেষ করে সে খাতা নিয়ে উঠে দাঁড়াল, আচ্ছা আজ তাহলে উঠি। কমলবাবু বললেন, “কিন্তু আমাদের তীর্থযাত্রার কী হবে, যাওয়া উচিত হবে কি না, কিছু বললেন না তো।”

To be continue…

 গল্পটির দ্বিতীয় পর্ব পড়ার জন্য ক্লিক করুন- সেরা গোয়েন্দা গল্প- লোহার বিস্কুট রহস্য 
পড়ুনঃ- মজার গোয়েন্দা গল্প-বিস্কুট চোরের রহস্য 
আমাদের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হবেন?---- 

ফেসবুক- ছাড়পত্র 

টেলিগ্রাম- charpatra-official 

“সেরা গোয়েন্দা গল্প। গোয়েন্দা গল্প। sera goyenda golpo. রহস্য”


Spread the love

Leave a Reply