মিষ্টি প্রেমের গল্প। ভালবাসার গল্প। 1 new beautiful bengali love story.

Spread the love

একটি সুন্দর মিষ্টি প্রেমের গল্প থাকছে আজ। এই একটু অন্যরকম ভালোবাসার গল্পটি সম্পর্কিত আপনার মতামত অবশ্যই জানাবেন!

মিষ্টি প্রেমের গল্পঃ-

নদীর ধারে ওই কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিয়ে অনেক লোককথা প্রচলিত আছে । যেমন রোমিও -জুলিয়েট, লেইলা – মজনু , রাধা – কৃষ্ণর প্রেম আজও সুবিখ্যাত তেমন কেশব রাধিকার প্রেম ও অমর । আজ আপনাদের কাছে এক ভিন্নস্বাদের প্রেম কাহিনী নিয়ে আমি হাজির।

পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলে কৃষ। তবে বাবার টাকা নিয়ে ওর কোনো গর্ব নেই , ছেলেটি ভীষণ সাদামাটা আর প্রাণবন্ত হাসি – খুশি মেজাজের। ঠোঁটের কোণে থাকা ওর হাসিটা খুব অলৌকিক ,ওই হাসিতে ও যে কাউকে ওর ভালোবাসায় ফেলতে পারে।

একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে নদীর ধারে ওর সমবয়সী একটি মেয়েকে কাঁদতে দেখে ও ছুট্টে যায় ওর কাছে । ” কি হয়েছে তোমার?” এটা জিজ্ঞাসা করা মাত্রই মেয়েটি কৃষ কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। কৃষ কিছুই না বুঝে ভ্যাবলা কান্তর মত মেয়েটির চলে যাওয়া লক্ষ্য করতে থাকে। পরের দিন আবার স্কুল থেকে ফেরার সময় কৃষ মেয়েটিকে ওই নদীর ধারে দেখতে পায়। আজ মেয়েটিকে আর পালিয়ে যেতে দেবে না ভেবে রাস্তা আগলে পেছন থেকে ডাক দেয় ” এই ছিচকান্দুনে মেয়ে, প্রতিদিন এভাবে কাঁদো কেন?”

মিষ্টি প্রেমের গল্প
মিষ্টি প্রেমের গল্প

মেয়েটি পেছন ফিরে তাকাতেই যেন আকাশের রঙের সাথে বাতাসে মেশানো কোনো গন্ধ কৃষ কে আচ্ছন্ন করে ফেলে। মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে ও অনুভব করে এক অলৌকিক অনুভূতি । এসবের মাঝে আজও মেয়েটি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেলে তখন ওর হুস ফেরে। তারপর থেকে কৃষ প্রতিদিন ফেরার পথে মেয়েটির কাছে যায়, কথা বলার চেষ্টা করে কিন্তু মেয়েটি কোনো উত্তর দেয় না । এভাবে ২১ দিন পেরোনোর পর কৃষ অভ্যস্ত হয়ে যায় মেয়েটির নিস্তব্ধতায় তাই সে ভাবে নেয় যে, মেয়েটি হয়তো বোবা বা কালা।

একদিন কৃষের স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হলে ও নদীর ধারে পৌঁছে চমকে ওঠে, কৃষ এর দেরিতে পৌঁছানোর জন্য মেয়েটি তার ওপর ভীষন চটে আছে আর বারবার একটাই কথা বলছে ” এবারও একা করে চলে যাবে। আমি সবটা জানি তাও থাকতে পারি না । যেদিন আমি চলে যাবো সেদিন, হ্যাঁ হ্যাঁ সেদিন এই বুঝবে… ” কৃষ এত সুরেলা কণ্ঠ জীবনেও শোনেনি এমন অনুভূতি তার কোনোদিনও হয়নি। আস্তে আস্তে মেয়েটির কাছে আগিয়ে জড়িয়ে ধরে তাকে । মেয়েটি বলে ওঠে “আমি সব বুঝি… সব … কিন্তু কিছু বলি না । ওই যে একটাই ভয় ” । কৃষ জিজ্ঞাসা করে ” কিসের ভয়?” । “তোমাকে হারাবার ভয় ” … এটা বলে মেয়েটি আবার ধাক্কা দিয়ে কৃষকে ফেলে দৌড়ে কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে যায়।

পড়ুনঃ- অবহেলা থেকে ভালোবাসা 

এরপর থেকে কৃষ মাঝে মধ্যেই স্কুল যাওয়ার নাম করে মেয়েটির সাথে নদীর ধারে সময় কাটায় । কিন্তু বারেবারে সে অবাক হয় মেয়েটির বিষয়ে কিছু জানতে চাইলে মেয়েটিকে তার নাম বা তার পরিবার নিয়ে জানতে চাইলে মেয়েটি শুধু বলে ” কলঙ্কিনী রাধার কৃষ্ণ প্রেমেই একমাত্র পরিচয়” । কৃষ দিনদিন যেন মেয়েটির মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, কিছুতেই তার মন বসে না – নাওয়া খাওয়া ঘুম পড়াশোনা ছেড়ে সারাদিন শুধু ওই মেয়েটির কথা ভাবে আর স্কুল টিউশন যাবার নাম করে ওই মেয়েটির সাথে সময় কাটাতে থাকে। কৃষ এর হটাৎ এত পরিবর্তনে বাড়ির সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ে।

বেশ কিছুদিন ধরে তাই কৃষের বাবা নিজে তাকে স্কুল পর্যন্ত ছেড়ে দিয়ে আসতে শুরু করেন। আর কৃষের বন্ধুদের তার ওপর নজর রাখার দায়িত্ব দেন । একদিন স্কুল ছুটির পর কৃষ এর কয়েকজন বন্ধু তার পিছু নেয়। তারা দেখে অবাক হয়ে যায় তাদের বন্ধু কৃষ ফাঁকা নদীর ধারে ওই গাছের আড়ালে কার সাথে কথা বলছে । তারা পুরো বিষয়টি কৃষ এর বাবাকে জানায়। তাই কৃষের বাবা নিজে একদিন নদীর ধারে একটি গাছের আড়ালে ছেলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন । একটু পর কৃষ সেখানে আসে আর ওই গাছের তলায় মেয়েটির কোলে মাথা রেখে গল্প করতে থাকে কিন্তু কৃষ এর বাবা অবাক হয়ে নিজের ছেলের দিয়ে তাকিয়ে থাকেন ।

ভালবাসার গল্প
ভালবাসার গল্প

কারণ তিনি কোনো মেয়েকে নয় একটি পাথরের ওপর নিজের ছেলেকে মাথা রেখে শুয়ে একা একা কথা বলতে দেখেন। তখনি তিনি গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে কৃষ এর সামনে এসে জিজ্ঞাস করেন এখানে একা একা তুমি কি করছ? কৃষ তার বাবাকে দেখে চমকে ওঠে তারপর উত্তেজিত হয়ে বলে ” তুমি আমাদের আগেরবার আলাদা করেছ কিন্তু এবার পারবে না । “আমি ওকে ভালবাসি , আমি ওর সাথে থাকতে চাই”। পাগলের মত একটাই কথা বারেবারে বলতে থাকে । কৃষ এর বাবা লক্ষ্য করেন কৃষ এর চোখ গুলো যেন কেমন ঘোলাটে ঘোলাটে হয়ে গেছে আর ভারসাম্যহীন এর মত সে ব্যবহার করছে ।

তাই দেরি না করে ওখান থেকে ছেলেকে নিয়ে সোজা শহরে চলে যান। সেখানে সাইকোলজিস্ট এর কাছে নিয়ে গেলে তিনি বলেন কৃষ একটা কল্পনার জগতে বাস করছিলো বেশ কয়েকমাস ধরে । ও যা কল্পনা করত তাকেই বাস্তব ভাবতো। বাস্তব আর কল্পনার মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছে ছেলেটা । যেটাকে হ্যালুসিনেশন বলা হয়। কৃষ কি কোনো গল্প শুনতে অভ্যস্ত ছিল ? তিনি জিজ্ঞাসা করেন ।

কৃষ এর বাবা বলেন হ্যাঁ । ছোট থেকেই কৃষ এর দিদা নদীর ধারে কেশব আর রাধিকার প্রেম কাহিনী কৃষ কে শোনাতেন।
ডাক্তার চিকিৎসার সুবিধার জন্য গল্পটি কৃষ এর বাবার কাছে জানতে চাইলে , কৃষ এর বাবা বলেন –

পড়ুন- মজাদার প্রেমের গল্প- সারপ্রাইজ 

আজ থেকে প্রায় ৩০০/৪০০ বছর আগে আমাদের গ্রামের এক জমিদারের ছেলে ছিল কেশব। প্রতিদিন বিকেলে কেশব ছিপ নিয়ে মাছ ধরতে যেত নদীর ধারে । আর ওখানে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে শুয়ে বিশ্রাম করতো । মাছ ধরার নাম করে কেশব অপেক্ষা করতো এক ধীবর কন্যার। যার নাম ছিল রাধিকা। রাধিকা এলে ২ জন মিলে একসাথে মাছ ধরত আর গল্প করতো। আস্তে আস্তে বন্ধুত্বটা ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয়েছিল । বেশ আনন্দে ছিল দুজনে তবে সে আনন্দ স্থায়ী ছিল না । কেশবের বাবা সবটা জানতে পারলে ছেলের বিয়ে ঠিক করে দেন।

এদিকে কেশব ও ঠিক করে রাধিকাকে নিয়ে পালিয়ে যাবে । তাই বিয়ের দিন বিকেলে রাধিকাকে অপেক্ষা করতে বলে কৃষ্ণচূড়া গাছটার তলায় । কেশব বিয়ের দিন বিকেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে গাছটার কাছে আসে, কিন্তু রাধিকাকে দেখতে পায় না । বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয় কিন্তু রাধিকা আসে না ! তাই কেশব ভাবে হয়তো তার বাবা রাধিকার কোনো ক্ষতি করে দিয়েছে । আবার এটাও হতে পারে রাধিকা একটা বেকার ছেলের সাথে পালিয়ে ভবিষ্যত নেই ভেবে হয়তো আসেনি । তাই সে দিশেহারা হয়ে ওই গাছেই গলায় দড়ি নিয়ে আত্মহত্যা করে।

অসুস্থ মা কে একা ফেলে আসতে পারেনি সেদিন রাধিকা, তাই পরের দিন সকালে যখন সেখানে আসে তখন দেখতে পায় কেশবের ঝুলন্ত দেহ। জমিদার তার ছেলের মৃত্যুর জন্য রাধিকাকে দায়ী করেন কিন্তু শাস্তি ভোগ করার মতো অবস্থায় রাধিকা ছিলো না । উন্মত্ত হয়ে ওখানেই কেশবের মৃত দেহ টাকে আকড়ে ধরে থাকে রাধিকা । তারপর থেকে ওই গাছটার তলায় সবসময় কেশব কেশব করে চিৎকার করে কাঁদত রাধিকা কিন্তু কেউ সান্তনা দেবার মত ছিল না । কিছুদিন পর নাকি রধিকাও নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল । তাকেও আর কোনোদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ডাক্তার সবটা শুনে বললেন আমি একদম ঠিক এই বুঝেছি এই গল্পটা ছোট থেকে শুনে শুনে ওর মাথায় গাঁথা গেছে । তাই ওই রাধিকাকে, ও বাস্তবে কল্পনা করেছে ।

bengali love story
bengali love story

দীর্ঘ চারবছর চিকিৎসার পর কৃষ সুস্থ হয়ে উঠেছে । এখন তাকে কোনো মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে, ও হেসে বলে “নারী জাতি হইতে দূরে থাকাই শ্রেয়” । সুস্থ হওয়ার পর কৃষ আবার গ্রামে ফিরেছে আর এতদিন ও শহরেই পড়াশোনা কমপ্লিট করেছে কিন্তু গ্রামের স্কুলকে ভুলবে কি করে তাই আজ সময় করে আবার গ্রামের স্কুল ঘুরতে গেছে আর গল্প আড্ডার মাঝে কখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে ও বুঝতেও পারেনি। বিকেলে ফেরার সময় নদীর ধারে কৃষ দেখতে পায় তার সমবয়সী একটি মেয়ে বসে বসে কাঁদছে । কৃষ মেয়েটির কাছে গিয়ে বলে ” এখনো কাঁদুনে স্বভাবটা যায়নি “!

মেয়েটি বলে ছেড়ে তো আবারও চলে গিয়েছিলে তাহলে ফিরলে কেন ?
তোমাকে ফিরে পাবার জন্যই ফিরেছি । এখন আমি আত্মনির্ভরশীল। তাহলে এখন আমার সাথে পালিয়ে যেতে রাজি তো ? এখান থেকে তোমাকে নিয়ে সোজা শহরে গিয়ে বিয়ে করে আমাদের স্বপ্নের সংসার গড়ে তুলবো।

একে অপরকে জড়িয়ে ধরে দু জনেই বলে উঠে-
“তোমাতেই মুক্তি প্রিয়,…”

আলোরানি মিশ্র

গল্পের ভাবনায়-
আলোরানির আরও কিছু লেখা- 

ভূত চতুর্দশীর সেই ভয়ানক রাত

রহস্যময় সেই রাত

ছাত্রদের জন্য একটি প্রেরণা মূলক গল্প
আমাদের সাথে যুক্ত হবেন যেভাবে- 

ফেসবুক Group - গল্প Junction

ফেসবুক- ছাড়পত্র

টেলিগ্রাম- charpatraOfficial

WhatsApp Group- ছাড়পত্র (২)

“মিষ্টি প্রেমের গল্প। ভালবাসার গল্প। 1 new beautiful bengali love story”


Spread the love

Leave a Reply