ছাত্রদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প। ছাত্রদের জন্য মোটিভেশনাল গল্প। ছাত্রদের সফলতার গল্প 1 best motivational story for students.

Spread the love

ছাত্র জীবন বড়ই এক অদ্ভুত জীবন। যেখানে বহুবার অসফলতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। আজ একটি, ছাত্রদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প থাকছে, ছাড়পত্রের পাতায়।

ছাত্রদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প- বিজয়ীঃ-

নবিপুরা গ্রামের ছেলে বিজয় । তার বুদ্ধিমত্তার জন্য আত্মীয় স্বজন আর বন্ধু মহলে সে বেশ জনপ্রিয়। ছোট থেকেই তার ইচ্ছে একজন সৎ পুলিশ অফিসার হবে ঠিক তার দাদুর মতো। এই স্বপ্ন নিয়েই তার বড়ো হয়ে ওঠা । এভাবেই শুরু ওর গল্পটা-

বিজয় যখন উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ,তখন তার বাবা জিজ্ঞাসা করে IIT না UPSC কোনটা করতে চাও তুমি ? বিজয় UPSC কেই বেঁছে নেয়। তারপর শুরু হয় তার নতুন জীবন চলা। গ্র্যাজুয়েশন এর সাথে সাথেই সে শুরু করে UPSC এর preparation. তার যে বন্ধুদের গ্রুপ ছিল তাদের মধ্যে অনেকেই কাজ পেয়ে যায় আবার কিছু জন চেষ্টা চালিয়ে যায়। গ্র্যাজুয়েশন শেষের পরেই বিজয় UPSC এক্সাম এ বসে,তবে exam দিয়ে আসার পর থেকেই তার মন মেজাজ ভালো নেই কারণ ও যেভাবে এতদিন পড়ে এসেছে ঠিক তার বিপরীত ভাবেই এবারে প্রশ্ন পত্র সাজানো হয়েছে ।

একটা কথা সে বারবার শুনেছে ” UPSC বাচ্চোকা খেল নেহি হে” । সেই কথাটার মানে ও আজ বুঝেছে । Prelims এর রেজাল্ট বেরোলেও ওর নাম আসেনি । ও আগে থেকেই জানত ওর cut off ক্লিয়ার হবে না । পুনরায় নিজেকে উৎসাহিত করে আবার preparation এ মন দেয়। পরের বছর এক্সাম দেয় কিন্তু এবার ও ব্যর্থ হয় সে। পরপর দুইবার ব্যার্থতা ও আসা করেনি । তাও নিজের বাবাকে দেওয়া কথা আর নিজের ইচ্ছে পূরণের তাগিদে বাড়িতে কাউকে কিছু না জানিয়ে দিল্লি পাড়ি দেয় সে। কিন্তু এবছর ও ব্যর্থ হয় বিজয়। পরপর ৩ বার cut off যখন ক্লিয়ার হলো না তখন ওর নিজের প্রতি সন্দেহ হলো সে কি আদৌ এই এক্সাম টার যোগ্য?

ছাত্রদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প
ছাত্রদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

পুরোপুরি ভাবে demotivate হয়ে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে দিল্লি থেকে নিজের বাড়িতে ফিরে এলো। কিন্তু এ কি, সে তো এটা আশা করেনি, তার বাড়ি ফিরে আসাতে তার বাবা , মা, ভাই বোন কেউ আনন্দিত হয়নি। তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করে ” তাহলে ৬ বছর আগে যখন তোমায় জিজ্ঞাসা করেছিলাম কি চাও তখন কেন UPSC বলেছিলে”? এই দিনটা দেখার জন্য কি এতদিন অপেক্ষা করেছি আমি ? তুমি কি এটা এখনও বুঝনি যে UPSC শুধু একটা এক্সাম নয়, এটা একটা emotion, তুমি ব্যর্থতার ভয়ে নিজের লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছো!

এই প্রেসার টুকু না নিতে পারলে যোগ্য officer হবে কি করে? বাবার বলা কথা গুলো তীরের মত বিজয়ের বুকে বিঁধল। অধিক বিলম্ব না করে সে পরের দিন তার বাবার পা ছুঁয়ে বললো ” যেদিন ইউনিফর্ম পরবো ঠিক সেদিন আবার এই গ্রামে পা দেবো , তার আগে নয় ” তারপর বেরিয়ে গেলো নিজের উদ্দেশ্য পূরণের পথে। তার মুখে শুধু একটাই কথা ” এসপার নয়তো উসপার, UPSC চান্স ছয় বার” এখনো তিনবার সুযোগ আমার আছে।

দেখতে দেখতে আরো ২ বছর কেটে গেলো কোনোবারই ওর এক্সাম ক্লিয়ার হয়নি , মোট ৫ বার ব্যর্থতার পরেও ও শেষ বারের অপেক্ষাতেই আছে । এই কয়েকটা বছরের মধ্যে ওকে নানান বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে কিন্তু ও দমে যাইনি। এবার এই last attempt দিতে যাওয়ার আগের রাত্রে ওর কিছু কথা মনে পড়লো-

দুই বছর আগে যখন টিউশন স্যার রিইউনিয়ন পার্টি করেছিলেন তখন সেখানে আমার সব বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল শুধু আমাকে ছাড়া। এক বন্ধু স্যারকে জিজ্ঞাসা করাতে স্যার বলেছিলেন তোমরা সবাই সার্ভিস এর সাথে যুক্ত এবার তোমাদের মাঝে যদি বিজয়কে ডাকতাম তাহলে কি সেটা মানাতো? যোগ্যতা ছাড়া সব জায়গায় যাওয়া যায় না বুঝেছ । সেই বন্ধুই কল করে আমাকে সবটা বলেছিল ।

motivational story for students
motivational story for students

আবার এই এক বছর আগে যখন আমার প্রিয় বন্ধু মণীশ এর বিয়ে হলো তখন সেও আমায় নিমন্ত্রণ করেনি । শুধু কল করে বলেছিল আমার senior officer রা আমার গেষ্ট । আর আমার সব বন্ধুই air force, nevi নইলে কোনো state pcs অফিসার সেখানে যদি তোকে আসতে বলি তাহলে সবার সামনে কি বলে তোর পরিচয় দেবো বলতো ? আমার সন্মান যাবে বেকার বেকার। তাই ভাই তুই না হয়, পরে এসে একবার তোর বৌদির সাথে দেখা করে যাস।

এরকম ভাবে বারবার এই বিজয়কে নানান অপমানের সম্মুখীন হতে হয় । এসব ভাবনা শেষ হওয়ার পর চিৎকার করে বলে ওঠে বিজয়.. UPSC is not just an exam but my love, feelings, goals, everything … এই ভেবে।

এর ঠিক ৫ বছর পর বিজয়ের বন্ধু মণীশ টাকা তছরুপের দায়ে অ্যারেস্ট হয় , তাকে কোর্ট এ পেশ করা হয় । মণীশ সেখানে হটাৎ করে লক্ষ্য করে সামনের দিকে, দেখে অবাক হয়ে যায় তার বন্ধু বিজয় আজ পুলিশ এর ইউনিফর্মে তার সামনে দাড়িয়ে । আজ সেই বিজয় বেকার নয় তার পরিচয় আজ Sp Bijoy Mitra। কিন্তু পার্থক্য এটাই, মনীশের মত বিজয় তাকে সবার সামনে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেনি। সে নিজে বিচারককে কথা দিলো যে এই কেস টি সে নিজে investigation করে আসল দোষীকে ঠিক খুঁজে বের করবে। এরপর মণীশ তার কাছে ক্ষমা চাইতে এলে প্রতিউত্তরে বিজয় বললো না ভাই , তুই কিছু ভুল করিসনি । সেদিন তুই ওই ব্যবহার না করলে আমি ‘আমার আমি’ টাকে হয়তো খুঁজে পেতাম না ।

পড়ুনঃ- অসাধারণ কয়েকটি শিক্ষণীয় গল্প 

(ছাত্রদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প)

বিজয় যখন কোর্ট থেকে বেরিয়ে গাড়িতে গিয়ে উঠলো দুর থেকে দেখতে পেলো তার টিউশন স্যারকে। গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে প্রণাম করলো তার স্যারকে । স্যার তো অবাক , এ তো সেই বিজয় নয়? আজ যে বিজয় প্রণাম করছে সে বিখ্যাত পুলিশ অফিসার। বিজয় জিজ্ঞাসা করলো স্যার আপনি এখানে কি করছেন?

স্যার বললেন বিজয় আমি তোমার মতই আমার ছেলেকেও একজন সৎ পুলিশ অফিসার বানাতে চাই । তবে জানো দেশের যেটি এখন নতুন অথচ সেরা কোচিং সেন্টার সেখানে ছেলেকে ভর্তি করার ইচ্ছে ছিল, তবে সেখানে একটি এন্ট্রান্স এক্সাম দিয়ে চান্স পেতে হয়। কিন্তু আমার ছেলে পাস করতে পারেনি । তাই ভাবছি সেই coaching centre এর হেড এর সাথে কথা বলে যদি কিছু টাকা দিয়ে ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে ভালো হয়, তাই জন্যই আসা আমার।

বিজয় বললো ঠিক আছে চলুন আমি আপনাকে ওখানে নিয়ে যাচ্ছি। তারা সেখানে পৌঁছাতেই বিজয় কে দেখে সবাই ” sir” ” sir” বলে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ল। টিউশন স্যার তো বেশ অবাক , বিজয় এর জন্য এরা এমন করছে কেন ? এরম coaching centre থেকে তো কতো ছেলে মেয়ে IAS, IPS হয়। বিজয় তখন তার স্যারকে নিয়ে ভেতরে একটা রুমে যায়। তারপর হেড এর চেয়ারে বসে জিজ্ঞাসা করে ” বলুন কিভাবে আপনার সাহায্য করতে পারি”?

ছাত্রদের জন্য মোটিভেশনাল গল্প
ছাত্রদের জন্য মোটিভেশনাল গল্প

টিউশন স্যার এর মাথায় বিনা মেঘে বজ্রপাত পড়ার মত অবস্থা, তিনি বলে ওঠেন তারমানে বিজয় তুমি এই coaching centre এর owner। বিজয় বলে ” হ্যাঁ স্যার আমিই ” তবে এর জন্য, আপনি যে কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন তা কিন্তু নয়। কারণ একদিন আপনি এই বলেছিলেন, যোগ্যতা ছাড়া সব জায়গায় যাওয়া যায় না, তাই আপনার সেই কথা আমি রাখবো। যেদিন আপনার ছেলে নিজের যোগ্যতায় chance পাবে সেদিন এই coaching centre এ আসার সুযোগ পাবে, তার আগে নয়। স্যার বাকরুদ্ধ হয়ে বসে পড়েন।

এভাবেই বিজয় নিজেকে প্রমাণ করে সমাজের কাছে । সেই বেকার বিজয় আজ SP, সাথে সাথে ভারতের বেস্ট কোচিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। বারবার ব্যর্থতাও তাকে দমিয়ে দিতে পারেনি । লক্ষ্যটা স্থির করা উচিত অর্জুনের মত, তবেই সে বিজয়ীর শিরোপা অর্জন করতে পারবে। আজ বিজয় যেমন করেছে । We should be proud of every UPSC candidate because they are the future of India.

আলোরানি মিশ্র

গল্পের কারুকার্যে- (ছাত্রদের জন্য মোটিভেশনাল গল্প- বিজয়ী)
আলোরানির আরও কিছু বিশেষ লেখা- 

বন্ধুত্বের সেরা গল্প- রুনিমা 

মাকে নিয়ে দুটি সেরা গল্প 

১লা আষাঢ়- একটি গভীর ভালোবাসার গল্প 
আমাদের সাথে যুক্ত হবেন যেভাবে- 

ফেসবুক Group - গল্প Junction 

ফেসবুক- ছাড়পত্র

টেলিগ্রাম- charpatraOfficial

WhatsApp Group- ছাড়পত্র (২)

(ছাত্রদের জন্য মোটিভেশনাল গল্প)

” ছাত্রদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প। ছাত্রদের জন্য মোটিভেশনাল গল্প”


Spread the love

Leave a Reply