একটি সত্য ভূতুড়ে ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা, আজকের এই সত্যি ভূতের গল্প টির, মূল কেন্দ্রে রয়েছে একটি স্কুল। সেই স্কুলকে ঘিরেই ঘটেছে যতসব অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড!
সত্যি ভূতের গল্পঃ- ভূতুড়ে স্কুল
যে ঘটনাটি আজ বলতে যাচ্ছি, সেটি আজ থেকে প্রায় কয়েক বছর আগে ঘটেছিল। বিদ্যালয়টি স্বাভাবিক ভাবেই তার কার্যক্রম চালাত, তখন আমাদের বিদ্যালয়ের ৬-৭ জনের কোনো একটি ক্লাসের গ্রুপের মধ্যে এক আশ্চর্য প্রতিযোগিতা চলত। আর এই আশ্চর্য প্রতিযোগিতাটি হল, বিদ্যালয়ে সবার আগে আসার প্রতিযোগিতা।
এই প্রতিযোগিতারই এক অংশ রূপে একদিন স্কুলের একজন ছাত্রী ভোরের আবছা আলোয় বিদ্যালয়ে চলে আসে। স্বাভাবিক ভাবেই এত সকালে বিদ্যালয়ের মূল দরজা বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু সেদিন তার সাথে ব্যতিক্রমী কিছু ঘটল। সে গিয়ে দেখল, বিদ্যালয়ের মূল দরজা একদম খোলা আছে। সে এটাকে তেমন একটা গুরুত্ব না দিয়েই বিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করল।
কিন্তু সে নিজেও জানে না যে, তার কাছে গুরুত্বহীন মনে হওয়া এই আশ্চর্য জিনিসটাই, তার জীবনে কালো ছায়া হিসেবে নেমে আসতে চলেছে। বিদ্যালয়ের মূল দরজা বন্ধ থাকে বলে, ক্লাস রুম গুলিতেও তালা দেওয়া থাকে না, তাই সেই ছাত্রীটি তার ক্লাস রুমে গিয়ে স্কুল ব্যাগটি রেখে, প্রতীক্ষা করতে লাগল অপর বন্ধুর।
এরকম সাত সকালে, বিদ্যালয়ে কেউই নেই, কিন্তু আছে শুধু দুইজন ব্যক্তি। প্রথম ব্যক্তি হল সেই মেয়েটি নিজে আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হল, তার গণিতের শিক্ষক! এরকম সকালে কোনো শিক্ষকের স্কুলে আসার কথা নয়, কিন্তু মেয়েটি ভাবল কোনো জরুরী কাজ আছে বোধহয়, তাই শিক্ষক তাড়াতাড়ি এসেছেন। আর এই কারণেই হয়ত বিদ্যালয়ের মূল দরজা খোলাই ছিল। এরপর সে বিষয়টাকে আর তেমন গুরুত্ব দিল না।
এরপর শিক্ষক, ছাত্রীটির কাছে এসে বলল- “এত তাড়াতাড়ি এসেই পড়েছ যখন, চলো তোমাকে কয়েকটা অঙ্ক দেখিয়ে দিই। ক্লাস রুমের ভিতরে চলো।“ মেয়েটিও শিক্ষকের কথার সম্মতি জানিয়ে ক্লাস রুমের ভিতরে প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, শিক্ষক মহাশয় আগে, আর তার পিছনে সেই ছাত্রীটি হেঁটে হেঁটে ক্লাস রুমের ভিতরে যাচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে মেয়েটির চোখ হঠাৎই চলে গেল গনিত শিক্ষকের পায়ের দিকে, আশ্চর্য আশ্চর্য শিক্ষকের পা গুলি…।
পড়ুনঃ- ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প- ট্রেনের সেই ভয়াবহ রাত।
শিক্ষকের পায়ের পাতা গুলি সামনে নয়, পিছনের দিকে মোড়া। সে ঘাবড়ে গিয়ে চিৎকার করল, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেড়িয়ে আসল না, তার চিৎকার যেন তার গলাতেই আঁটকে গেছে, তার কেমন যেন মনে হতে লাগল কেউ হয়ত তার গলা আঁটকে রেখেছে। তার গলা দিয়ে যেন আর কোনো কথাই আসছে না।
সে ভয়ে ভয়ে তার শিক্ষকের সামনে গিয়ে ইশারায় বোঝাল, সে ওয়াশ রুমে যেতে চায়। এই বলে সে ওয়াশ রুমের দিকে পা বাড়ায়। ওয়াশ রুমে গিয়ে সে নিজের চোখে মুখে জলের ঝাঁপটা দিতে লাগল। আচমকাই তার মনে হতে লাগল, তার মাথার চুলের সাথে যেন কোনো কিছু স্পর্শ হচ্ছে। উপরের দিকে তাকাতেই, সে দেখল তার গণিত শিক্ষকের উল্টো পায়ের পাতা, তার মাথায় স্পর্শ হচ্ছে। আর সেগুলি দেদার ঝুলছে।
এরপর সেই শিক্ষকটি আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেনি। চোখের নিমেষে সে, সেই ছাত্রীটির ঘাড় ধরে বেসিনের উপর তার মাথা রেখে, ভাঁড়ি কিছু একটা দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দিল। ছাত্রীটির জীবন দ্বীপের অগ্নি এখানেই সমাপ্ত হয়।
ধীরে ধীরে সময় গড়িয়ে গেলে, স্কুলে শিক্ষক- ছাত্র ছাত্রীর ভিড় বাড়তেই, এই বীভৎস ঘটনা সবার নজরে আসে। কিভাবে কি হল, তা জানার তাগিদে স্কুলে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হল।
পড়ুনঃ- রহস্যময় ভূতের গল্প- মাথা কাঁটা লাশ।
সিসি- টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সামনে আসতেই এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য সবার সামনে উপস্থিত হল। মেয়েটি সকালে যার সাথে ছিল, সে কোনো গণিতের শিক্ষক ছিল না, না ছিল তার কাছে বা আশেপাশে কোনো মানুষ!
মেয়েটির গুরুত্ব না দেওয়া অস্বাভাবিক জিনিসগুলিই তার জীবনে কাল হয়ে নেমে এসেছে। মেয়েটির সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনায়, গণিত শিক্ষকের প্রতিচ্ছবি চলে আসে, কারণ সমস্ত শিক্ষকের মধ্যে গনিতের শিক্ষকই সবার আগে বিদ্যালয়ে আসেন। আর এই কারণেই মেয়েটি হয়ত সেই ঘটনাটিকে তেমন কোনো গুরুত্ব দেয় নি। তবে এত সকালে একজন শিক্ষকের স্কুলে আসার ঘটনা, নিতান্তই রহস্যময়, মেয়েটির সেটি বোঝা উচিত ছিল।
এই রহস্যময় ঘটনার পর, যে ওয়াশ রুমে রহস্যজনক এবং শোচনীয় ভাবে মেয়েটির মৃত্যু ঘটেছিল সেই ওয়াশ রুমটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অভিভাবকদের ক্রোধে সেই বিদ্যালয়টিকেই চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিকে একটি নতুন জায়গায় তৈরি করা হয়েছে, আর পুরনো সেই বিদ্যালয়টি এখনও আগের অবস্থানে থেকে এক ভূতুড়ে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে প্রহ্র গুনছে।
দিনের বেলাতেও সেই পুরনো বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের অজান্তেই দেহের মধ্যে কেমন জানি একটি ভয়ের শিহরণ খেলে যায়, মনে করিয়ে দেয় সেই ছাত্রীটির রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর কথা।
আরোহী নূর রোশনি
গল্পের প্রতিচ্ছবি রচনায়-
© reserved by Admin of charpatra.com
আপনার লেখা গল্প ছাড়পত্রে পাঁঠাতে পারেন সরাসরি WhatsApp এর মাধ্যমে। WhatsApp এর মাধ্যমে গল্প পাঠানোর জন্য এখানে ক্লিক করুন। অথবা, আপনার গল্পটি আমাদের মেল করতে পারেন- charpatrablog@gmail.com -এই ঠিকানায়।
আপনার পছন্দ হতে পারে এরকম কিছু গল্প- ভয়ানক রহস্যময় অটো-রিক্সা পৃথিবীর রহস্যময় ভয়ানক কিছু জায়গা সুইমিং পুলের ভুত
আমাদের সমস্ত আপডেটের জন্য চলে আসুন একই ছাঁদের তলায়-
ফেসবুক Group - গল্প Junction
ফেসবুক- ছাড়পত্র
টেলিগ্রাম- charpatraOfficial
WhatsApp Group- ছাড়পত্র (২)
কি কেন কীভাবের উপর গড়ে ওঠা মানুষের জিজ্ঞাসু মন সর্বদাই নতুন দিগন্তের সন্ধানে পা বাড়ায় ৷ প্রতিটি পদক্ষেপেই নতুন কিছু অভিজ্ঞতা আমাদের ঝুলিতে জমা হয় ৷ সেই অভিজ্ঞতা সকলের সাথে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে এক অফুরন্ত আনন্দ লুকিয়ে থাকে ৷ আর সেই কাজেই হাত বাড়িয়েছে ছাড়পত্রের টিম।
ধন্যবাদ।।