easy science experiment to do at home bangla. বিজ্ঞানের মজার পরীক্ষা। বিজ্ঞানের মজার এক্সপেরিমেন্ট। top 3 science experiment.

Spread the love

বিজ্ঞানের মজার পরীক্ষা নিয়েই আজকের লেখাটি। বিজ্ঞানের এই মজার পরীক্ষা গুলি আপনি বাড়িতেই অনায়াসেই করতে পাড়বেন। এই ব্লগে চারটি বিজ্ঞানের মজার এক্সপেরিমেন্ট বলা হয়েছে।

easy science experiment to do at home bangla. বিজ্ঞানের মজার পরীক্ষাঃ-

আজ বিজ্ঞানের মজার কিছু এক্সপেরিমেন্ট আপনাদের সামনে তুলে ধরব। এগুলি আপনি আপনার বাড়িতে সবার সামনে করে দেখাতে পাড়েন। সবাই ভাববে আপনি জাদু জানেন, কিন্তু এর পিছনে যে বিজ্ঞানের সূত্র কাজ করছে, তা শুধু আপনিই জানেন। তাহলে বিজ্ঞানের মজার এক্সপেরিমেন্ট গুলির জন্য প্রস্তুত তো?

ডিমকে কিভাবে জলে ভাসাবেন?

একটি ভালো ডিমকে যদি আপনি একগ্লাস সাধারণ জলে ভাসিয়ে দেন, দেখবেন যে ডিমটি ডুবে যাবে। কিন্তু সেই জলেই ইচ্ছে করলে আপনি ডিমটিকে ভাসাতে পাড়বেন। কিভাবে? আসুন দেখে নিই-

এই এক্সপেরিমেন্টটি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানঃ-

একটি ভালো ডিম। একটি গ্লাস। পরিস্কার জল এবং কিছু পরিমাণ লবণ।

কিভাবে এক্সপেরিমেন্টটি করবেন?

প্রথমে গ্লাসটিতে কানায় কানায় জল পরিপূর্ণ করে দিন। এরপর সেই গ্লাসে ৫-৬ চামচ লবণ ফেলে দিয়ে, ভালো মত জলটিকে ততক্ষণ পর্যন্ত নাড়াতে থাকুন, যতক্ষণ না পর্যন্ত লবণ জলে দ্রবীভূত হয়ে যাচ্ছে। এরপর ধীরে ধীরে ডিমটিকে জলে দিয়ে দিন।

easy science experiment to do at home bangla
easy science experiment to do at home bangla

পর্যবেক্ষণঃ-

আপনি দেখবেন যে, যে ডিমটি কিছুক্ষণ আগেই, সাধারণ জলে ডুবে যাচ্ছিল, সেটিই এখন লবণ মিশ্রিত জলে ভাসছে। আসলে লবণ মিশ্রিত জলের ঘনত্ব সাধারণ জলের থেকে বেশি হয়। কোনো তরলের ঘনত্ব যতই বেশি হবে, কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে সেই তরলে ভেসে থাকতে ততই সুবিধা হবে।

বাড়িতেই, জল দিয়ে মিউজিক বানানঃ-

কখনো কি, শুনেছেন যে, জল দিয়েও বাজনা বানানো যায়? হুম বানানো যায়। আর এটি হবে আপনার একান্ত নিজের বাজনা, যেটা আপনি নিজেই কাস্টমাইজ করবেন।

এই এক্সপেরিমেন্ট টি করতে কি কি প্রয়োজন?

কয়েকটি গ্লাস অথবা জলের বতল। জল এবং কাঠের ছোট লাঠি। কাঠের পেন্সিল হলেও চলবে।

কিভাবে এই এক্সপেরিমেন্টটি করবেন?

প্রথমেই গ্লাসগুলিকে সাড়ি-সাড়ি লাইনে রাখুন। এরপর প্রতিটি গ্লাসে আলাদা আলাদা পরিমাণ জল ঢালুন। আপনি এরকম ভাবেও জল ঢালতে পাড়েন- প্রথমটিতে অল্প পরিমাণ, তারপরের টিতে পূর্বেরটির তুলনায় একটু বেশি, এভাবে সর্বশেষ গ্লাসটিতে প্রায় ভর্তি জল ঢালুন। এরপর কাঠের পেন্সিলটি নিয়ে, বিভিন্ন গ্লাসে হালকা আঘাত করুন।

পর্যবেক্ষণঃ-

দেখবেন যে প্রতিটি গ্লাস থেকে পৃথক পৃথক শব্দ বেড়িয়ে আসছে। এভাবে দেখবেন কোনো গ্লাস থেকে বেশি জোরালো আবার কোনো গ্লাস থেকে কম জোরালো শব্দ বেড়িয়ে আসছে। এরপর গ্লাসগুলিকে শব্দের জোরালোতার উপর ভিত্তি ক্রমে সাজিয়ে আপনি নিজেই নিজের পছন্দ মত টিউন বানিয়ে নিতে পাড়েন।

যে গ্লাসটিতে সবথেকে কম জল আছে সেই গ্লাসটি থেকে জোরালো শব্দ আসবে এবং যে গ্লাসটিতে বেশি জল আছে সেটি থেকে হালকা শব্দ আসবে। আসলে শব্দকে জলের বাঁধার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাই বাঁধা যত বেশি হয়, গ্লাসের কম্পনও তত কম হয় এবং শব্দ হালকা হয়।

পড়ুনঃ- অসমাপ্ত কষ্টের প্রেমের গল্প

বাড়িতেই ভলক্যানো বানানোর এক্সপেরিমেন্টঃ-

খাবার সোডা দিয়ে বাড়িতেই এই রাসায়নিক এক্সপেরিমেন্ট টি করতে পাড়বেন। এই এক্সপেরিমেন্টের জন্য কি কি প্রয়োজন-

খাবার সোডা, খেয়াল রাখবেন যে, এটি যেন বেকিং পাউডার না হয়। বেকিং পাউডার হলে এক্সপেরিমেন্ট টি কাজ করবে না। ভিনিগার। একটি পাত্র। সঙ্গে কিছু কাগজ বা কাপড় রাখতে পাড়েন।

কিভাবে এই এক্সপেরিমেন্টটি করবেন?

প্রথমে কিছু পরিমাণ খাবার সোডা পাত্রটিতে ফেলে দিন। এরপর কিছু পরিমাণ ভিনিগার সেই পাত্রে ফেলে দিন। এরপরেই দেখবেন যাদু।

পর্যবেক্ষণঃ-

যখনই বেকিং সোডা এবং ভিনিগার পরস্পরের সংস্পর্শে আসবে তখনই, হঠাৎ করেই আগ্নেয়গিরির মত, ফেনার উদ্গিরন হবে। আসলে ভিনিগার হল একপ্রকারের অ্যাসিড। এই অ্যাসিড যখন সোডার সঙ্গে মিশে যায় তখন কার্বনিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে। আর এই কার্বনিক অ্যাসিড হল একপ্রকারের অস্থিতিশীল পদার্থ। এটি দ্রুত কার্বনডাইঅক্সাইড এবং জলে বিভাজিত হয়। আর এটিই ফেনার আকারে উদ্গিরনের মত বেড়িয়ে আসে।

কিভাবে অদৃশ্য কালি তৈরি করবেনঃ-

কেমন হয় যদি অদৃশ্য কালি তৈরি করা যায়। অর্থাৎ আপনি কাগজে লিখলেও সেই কালিটি সহজে দেখা যাবে না, কিন্তু একটি বিশেষ উপায়ে আপনি কি লিখেছেন সেটি দেখা যাবে। অন্যকে আপনি কাগজটি দেখালে তারা দেখবে কাগজটি ফাঁকা, কিন্তু আপনি কি লিখেছেন সেটি আপনি অনায়াসেই পড়তে পাড়বেন।

বিজ্ঞানের মজার পরীক্ষা বিজ্ঞানের মজার এক্সপেরিমেন্ট।
বিজ্ঞানের মজার পরীক্ষা বিজ্ঞানের মজার এক্সপেরিমেন্ট।

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ-

একটি বাটি, অর্ধেক লেবু, জল, চামচ, তুলো, একটি বাল্ব বা আলো এবং লেখার জন্য একটি সাদা কাগজ।

পদ্ধতিঃ-

প্রথমেই, আপনাকে লেবু থেকে সমস্ত রস বাটিতে বেড় করে নিতে হবে। এরপর সেখানে অল্প পরিমাণে জল মিশিয়ে দিন। এরপর তুলো নিয়ে সেই তরল মিশ্রণটিতে ভিজিয়ে নিন। পরবর্তীতে কাগজে আপনি যা কিছু লিখতে চান লিখে ফেলুন। এবার কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। দেখবেন যে আপনার লেখাটি দেখা যাচ্ছে না। ব্যস আপনার সিক্রেট ম্যাসেজ তৈরি।

পর্যবেক্ষণঃ-

যতক্ষণ না পর্যন্ত এই কাগজটিকে কেউ বাল্বে বা আলোতে গরম করছে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউই আপনি কি ম্যাসেজ লিখেছেন বুঝতে পাড়বে না। গুপ্ত ম্যাসেজ লিখার অসাধারণ টেকনিক, তাই না। কাগজটিকে গরম করার পড়ই আপনি কি লিখেছেন সেটি দেখা যাবে। আপনি লেবুর জায়গায়, পেয়াজ বা মধু বা কমলা লেবুর রস বা ভিনিগারও ব্যবহার করতে পাড়েন।

পড়ুনঃ-বাংলা মজার জোকস 

৫০+ সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্ট

বিজ্ঞানের কিছু সাধারণ প্রশ্ন উত্তর:-

বিমানে উঠার আগে কলমের কালি খালি করতে বলা হয় কেন?

উত্তর- আমরা জানি যে ভূপৃষ্ঠ থেকে যতই উপড়ে উঠা যায় ততই বায়ুমণ্ডলের চাপ কমতে থাকে। সেই কারণে কলমের ভিতরের চাপও স্বাভাবিক ভাবেই কমে যাবে। ফলে কলমের ভিতরের কালি কলমের খোলা রিফিল দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে আসবে এবং জামা-কাপড় বা ব্যাগে লেগে তা অপরিষ্কার করে দেবে। তাই বিমানে উঠার আগে কলমের কালি বা কলমের রিফিল ফেলে দিতে বলা হয়।

কিভাবে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টিপাত ঘটানো যায়?

উত্তর- আমরা জানি যে, বৃষ্টিপাতের জন্য ধূলিকণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারন এই ধূলিকণাকে আশ্রয় করেই বৃষ্টিবিন্দু বাতাসে ভেসে থাকে। এই ধূলিকণাকে আশ্রয় করেই বৃষ্টি বিন্দু গুলি ঘনীভূত হতে থাকে। বর্তমানে সিল্ভার আয়োডাইড এবং লবণের কণা বিমানের সাহায্যে মেঘের উপড়ে বা আকাশে ছড়িয়ে দিলে সিল্ভার আয়োডাইড বা লবণের কণাকে আশ্রয় করে জলীয় বাষ্প জমা হতে থাকে এবং বৃষ্টির ফোঁটা গঠন করে। আর এভাবেই কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টিপাত ঘটানো যায়।

সামুদ্রিক শঙ্খের মধ্যে কান রাখলে সমুদ্রের জলের শব্দ শোনা যায় কেন?

আসলে এটি সমুদ্রের জলের শব্দ নয়। এটি হল বায়ুর শব্দ। শঙ্খের বিভিন্ন খাঁজ কাঁটা গঠনের জন্য বায়ুকে বিভিন্ন বাঁধার মধ্যে দিয়ে শঙ্খের ভিতর দিয়ে চলতে হয়। আর এর ফলে শব্দ তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। এই শব্দ তরঙ্গই আমাদের কানে সমুদ্রের ঢেউ-এর মত শোনায়।

বিজ্ঞানের কিছু সাধারণ প্রশ্ন উত্তর
বিজ্ঞানের কিছু সাধারণ প্রশ্ন উত্তর image

মানুষ জলে সাঁতার কাঁটে কিভাবে?

মানুষের দেহ জলের আপেক্ষিক ওজন অপেক্ষা হালকা। কিন্তু মানুষের মাথার ওজন বেশি, সেই কারণে সমগ্র দেহও জলে ডুবে যেতে চায়। তাই সাঁতার কাঁটার মূল উপায়ই হল মাথাকে জলের বাইরে রাখা। কারণ আমাদের দেহ সহজেই জলে ভাসবে কিন্তু মাথা ভাসবে না। তাই আমরা হাত পা ছড়িয়ে জলের উপর চাপ দিয়ে মাথাকে জলের উপড়ে রাখার চেষ্টা করি। আপনি দেখবেন যে, জলের উপড়ে সাঁতার কাঁটা যতটাই কঠিন, জলের নীচে সাঁতার কাঁটা ততটাই সোজা। কিন্তু আপনি জলের নীচে বেশিক্ষণ সাঁতার কাটতে পাড়বেন না, মাঝে মাঝে আপনাকে জলের বাইরে এসে অক্সিজেন নিতেই হবে। তাই আপনাকে সাঁতার কাঁটা শিখতে হলে মাথাকে জলের উপড়ে রাখায় দক্ষ হতে হবে। 

নিয়মিত আপডেটের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ- অবাক বিশ্ব 
অথবা আমাদের ফেবুক গ্রুপ- amazing fact অবাক করা তথ্য
অথবা আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে পাড়েনঃ- CharpatraOFFICIAL 

“easy science experiment to do at home bangla. বিজ্ঞানের মজার পরীক্ষা। বিজ্ঞানের মজার এক্সপেরিমেন্ট। top 3 science experiment”


Spread the love

Leave a Reply