2 best bengali motivational story. মোটিভেশনাল স্টোরি। বাংলা মোটিভেশন।

Spread the love

দুটি best bengali motivational story নিয়ে আজকের এই মোটিভেশনাল বাংলা ব্লগ। নতুন কিছু ধ্যান-ধারণার উন্মেষ আপনার মধ্যে আজ হতে চলেছে এই দুটি মোটিভেশনাল স্টোরির মাধ্যমে।

best bengali motivational story মোটিভেশনাল স্টোরিঃ-

best bengali motivational story:- 01

আজ থেকে অনেক বছর আগের ঘটনা। এই ঘটনাটি আফ্রিকা মহাদেশের। সেই সময় আফ্রিকা মহাদেশে বেশ কয়েকটি হীরের খনির খোঁজ মিলেছিল। আফ্রিকার একটি গ্রামে একজন কৃষক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় শুধুমাত্র সেই সমস্ত মানুষদের কথা শুনতেন যারা হীরের খোঁজ পেয়ে রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে তারও ইচ্ছে হয়, সেও যদি এরকম একটি হীরের খনির সন্ধান পায় তাহলে কেমন হয়?

সেও রাতারাতি ধনী হয়ে যাবে। সেও তার পছন্দের মত খাবার খেতে পাড়বে। তার কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ থাকবে না। ধীরে ধীরে তার মধ্যে ঘনীভূত হওয়া এই স্বপ্নটি তার মধ্যে প্রবল হয়ে উঠে। সেও ধনী হতে চায়, কিন্তু সমস্যা হল, সে হীরের খনির খোঁজ করবে কেমন করে? তাই সে ঠিক করে, সে যেভাবেই হোক সমগ্র জায়গা খুঁজে দেখবে, যদি সে একবার হীরের খনি খুঁজে পায়, তাহলে তাঁকে ধনী হতে আর কেউই আটকাতে পাড়বে না।

এরপর সে তার জমিটি অন্য আরেকজন কৃষকের কাছে বিক্রি করে দিয়ে, হীরের খনির সন্ধানে সে বেড়িয়ে পড়ে, দিন যায় রাত আসে, কিন্তু সে তার লক্ষ্যে অটল। হীরের খনির খোঁজ সে করবেই করবে। এদিকে তার একমাত্র জমিটি বিক্রি করে তার হাঁতে যে টুকু অর্থ এসেছিল, সেটিও শেষ হওয়ার পথে, কিন্তু তার লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি।

best bengali motivational story
best bengali motivational story

সে সম্ভাব্য সব জায়গায় ঘুরে-ফিরে দেখে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সময়ের সাথে সাথে তার মনোবলও ভেঙ্গে যায়। সে ঠিক করে সে আবার তার বাড়িতে ফিরে যাবে, কিন্তু তার কাছে বাড়ি ফিরবার মত অর্থ নেই, সবই সে হীরের খনির খোঁজে অপচয় করে ফেলেছে। এরপর হতাশা তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। ধীরে ধীরে হতাশার কালো মেঘে সে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে থাকে। সর্বদা- “আর ধনী হওয়া হল না” এই চিন্তাটাই তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেতে শুরু করল। একদিন একটি নদীর সামনে নিতান্ত হতাশ হয়ে বসে তার ব্যর্থতার কথা মনে করে, নদীর জলে ডুবে সে আত্মহত্যা করে।

ওদিকে যে কৃষকের কাছে তিনি জমি বিক্রি করেছিলেন সেই কৃষক লাগাতার কয়েক বছর থেকে বেশ ভালোই ফসল ফলাচ্ছেন। একদিন তিনি জমিতে জলসেচ করার কাজে তার নদীর লাগোয়া জমিটির কাছে গিয়ে দেখলেন, জমি এবং নদীর সংযোগস্থলে অর্থাৎ নদীর কিনারে একটি সুন্দর পাথর পড়ে রয়েছে, পাঁথরটিতে সূর্যের আলো পড়ে আরও বেশি চকচক করছে। সে ঘড় সাজানোর কাজে আসবে ভেবে সেই পাঁথরটিকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সাজিয়ে রাখে।

কয়েক মাস পড় তার এক বন্ধু তার বাড়িতে ঘুরতে আসে, কৃষকের ঘড়ে সেই সুন্দর পাঁথরটা দেখে সে অবাক হয়ে বলল- “আরে ভাই, এই সুন্দর পাঁথরটা তুমি কোথায় পেলে?” কৃষক- “আমার জমির ধারে।“ কৃষকের বন্ধু কৃষককে বললেন- “তুমি কি জানো এই পাঁথরটির মূল্য কত?” কৃষক- “তা জানিনা, তবে ঘড় সাজানোর কাজে আসবে, ভেবেই আমি এই পাঁথরটিকে নিয়ে এসেছি।“ তার বন্ধু বললেন- “যদি আমি ভুল না হই, তাহলে এটি হল বহুমূল্যবান হীরে, আর এটা অনেকটাই বড়।“

কিন্তু কৃষক তার বন্ধুর কথাতে ঠিক মত বিশ্বাস করতে পাড়লেন না, কারণ তিনি জানেন হীরে তো অনেকটা ত্রিভুজের মত দেখতে, কিন্তু এটা তো একটা পাথর। তার বন্ধু তাঁকে জানায়- “হীরে আসলে পাথরের মত আকারেই থাকে, পড়ে সেটাকে কেটে ত্রিভুজের মত আকার দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও তার বিশ্বাস হয়নি।

তার বন্ধু বলে, “এরকম আরও পাথর সেখানে থাকতে পাড়ে।“ এরপর দুই বন্ধু মিলে আবার সেই জমিতে যায়, এবং খোঁজাখুঁজির পড় আবার কিছু সুন্দর চকচকে পাথর পেলেন, কিন্তু এগুলি আগেরটির থেকে কিছুটা ছোট। এরপর সেই পাথরগুলিকে তার বন্ধু পরীক্ষার জন্য পাঠালেন।

একদিন খুশি খুশি তার বন্ধু কৃষকের বাড়িতে এসে বললেন- “আমার অনুমান সত্যি, এগুলি হীরে।“ এরপর সেই জমিটিতে পাওয়া গেল হীরের খনি। সেই কৃষক তার বন্ধুকে সাথে নিয়ে হীরের ব্যবসায় নেমে পড়লেন, শুরু করলেন হীরের কারবারি। এভাবেই হয়ে উঠলেন তিনি অন্যতম ধনী ব্যক্তি। 

প্রথম কৃষক তার জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে, হীরের খোঁজে পুড়ো আফ্রিকা ঘুরেছেন, কিন্তু কখনো নিজের জমিটিতে খুঁজে দেখেননি। তার জমিতেই রয়েছে হীরের ভাণ্ডার অথচ তিনি পুড়ো আফ্রিকা হন্যে হয়ে ঘুরেছেন। আর যখন তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, নিজের জীবন দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি যদি নিজের জমিতে একবার খুঁজে দেখতেন, তাহলে হয়ত তার ধনী হওয়ার স্বপ্ন আজ পূরণ হয়ে যেত।

শিক্ষণীয় নীতিকথাঃ-

সুতরাং এই কাহিনী থেকে আমরা শিখতে পাড়ি যে,  এই কাহিনীর প্রথম কৃষকের স্বপ্ন তার পায়ের নীচের জমিতেই ছিল, কিন্তু সে খোঁজার চেষ্টা করেনি। ঠিক একই ভাবে আমরা সফলতা প্রাপ্তির আশায় কখনো এখানে কখনো ওখানে ঘুরে বেড়াই, ঠিক গল্পের প্রথম কৃষকটির মত। আমরা আমাদের আশেপাশে থাকা সফলতা প্রাপ্তির পথকে খুজি না বা খোঁজার চেষ্টা করিনা বা খুঁজে পেলেও গুরুত্ব দিই না। বরং অন্য একটি রাস্তা খোঁজার চেষ্টায় আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকি। অথচ আমাদের চেনা সফলতার রাস্তায় না গিয়ে ভিন্ন রাস্তা বাছাই করে নিই। আর এই কারনেই অবশেষে হতাশা ছাড়া আর কিছুই আমাদের জোটে না।

মোটিভেশনাল স্টোরি
মোটিভেশনাল স্টোরি

পড়ুনঃ-  ছোটদের শিক্ষণীয় গল্প

BENGALI MOTIVATIONAL QUOTES

best bengali motivational story 02:-

অ্যামাজনের জঙ্গলে এক ব্যাঙ তার তিন বাচ্চার সাথে বাস করত। তাদের চার জনের কাছে জঙ্গলই হল সব কিছু, সেই জগতের বাইরে তারা পরিচিত নয়। সেই ব্যাঙটি দেখতে অনেকটা হৃষ্ট-পুষ্ট ছিল, সে সর্বদা তার বাচ্চাদের নিজের বাহাদুরির কথা শোনাত। আর তার বাচ্চাদের কাছে তার সেইই হল পৃথিবীর সবথেকে বড় জীব এবং সবথেকে বেশি শক্তিশালী।

একদিন ব্যাঙটির তিন বাচ্চা ঘুরতে ঘুরতে একটি গ্রামে চলে আসে। সেখানে ঘুরতে ঘুরতে তাদের দৃষ্টি মাঠে চড়তে থাকা একটি গরুর উপর পড়ল। এত্ত বড় জীব তারা কোনো দিনও দেখেনি। গরুর বিশাল রূপ দেখে তারা ভয় পেয়ে গেল, তারা চুপিচুপি গরুটিকে দেখতে লাগল। তখনই গরুটি তার বাচ্চাকে দেখে ডাক দিল। গরুটির আওয়াজ শুনে ব্যাঙের বাচ্চারা ভীষণ ভয় পেয়ে গেল এবং ভয়ে আবার যে পথ ধরে এসেছিল, সেই পথ ধরেই দৌড়াতে দৌড়াতে নিজের বাড়িতে চলে গেল।

বাচ্চাদের ভীত দেখে ব্যাঙটি বাচ্চাদের ভয় পাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করল। বাচ্চারা হাফাতে হাফাতে বলতে লাগল- “এত্ত বড় জীব আমরা জীবনে কক্ষনোই দেখি নি। আমাদের মনে হয়, পৃথিবীর সবথেকে বড় জীব তুমি নও, বরং সেই মাঠের প্রাণীটি। নিজের সম্পর্কে এমন কথা শুনে ব্যাঙটির খারাপ লাগল। ব্যাঙটি তার বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করল- “সেই জীবটি দেখতে কেম্ন?” বাচ্চারা জানাল- “তার ইয়া বড় বড় চারটি পা, পিছনে একটা লেজ, আর মাথায় দুটি লম্বা লাঠি। তার অতিকায় দেহের সামনে তোমার দেহ কিছুই নয়।“

বাচ্চাদের মুখে এমন কথা শুনে ব্যাঙটি বেজায় বিরক্ত হল। সে মুখ দিয়ে হাওয়া ভড়ে নিয়ে নিজেকে ফুলিয়ে বলল- “সে কি এত বড় ছিল?”  বাচ্চারা- “না এর থেকেও অনেক বড়।“ এরপর ব্যাঙটি আরও কিছুটা হাওয়া ভড়ে নিয়ে বলল- “এত বড়?” বাচ্চারা বলল না এর থেকেও অনেক অনেক বড়।

যেহেতু ব্যাঙটি কখনোই তার জগতের বাইরে বেড়িয়ে আসেনি, সেহেতু তার পক্ষে একটি গরুর আকারের আন্দাজ করা অসম্ভব ছিল, কিন্তু সে নাছোড়বান্দা। সে আরও কিছুটা হাওয়া ভড়ে নিয়ে বলল-“নিশ্চয়ই এত বড়?” তার বাচ্চারা বলল- “না না  এর থেকেও আরও কয়েক গুন বড়।“

এরপর বাচ্চাদের কথা শুনে সেই ব্যাঙটি নিজের দেহটিকে আরও কিছুটা বড় করতে যেই না হাওয়া মুখে ভড়তে যাবে, অমনি তার শরীর চাপ সহ্য করতে না পেড়ে সেখানেই ফেটে গেল। আর নিজেকে বড় দেখাতে গিয়ে সে সেখানেই মারা গেল।

বাংলা মোটিভেশন শিক্ষণীয় নীতিকথা
বাংলা মোটিভেশন শিক্ষণীয় নীতিকথা

শিক্ষণীয় নীতিকথাঃ-

একটি কথা প্রচলিত আছে যে, “আপনাকে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যাকে বড় বলে বড় সেই হয়।“ গল্পের ব্যাঙটির মধ্যে থাকা অহং বোধই তার ধ্বংসের কারণ। এছাড়া এই গল্পটি থেকে আরও শিখতে পাড়া যায় যে, নিজের জগতেই শুধু ডুব মেরে বসে থাকলে চলবে না, বরং বাকি জগতে চলতে থাকা ঘটনা গুলির খোঁজ রাখাটাও দরকার।

“best bengali motivational story. মোটিভেশনাল স্টোরি। বাংলা মোটিভেশন”

পড়ুনঃ- সফলতার ছোট গল্প

গল্প থেকে জ্ঞান
প্রতিনিয়ত আপডেটের জন্যঃ- facebook-গল্প আর গল্প

telegram- ছাড়পত্র

Spread the love

Leave a Reply