bangla hasir golpo. bangla funny golpo. mojar golpo. বাংলা হাসির গল্প। গোপাল ভাঁড়ের 2 টি চরম হাসির গল্প।

Spread the love

দুটি বেস্ট ফানি গল্প নিয়ে আজকের এই লেখাটি। প্রতিটি গল্পের মধ্যে কিভাবে নায়ক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন তা অসাধারণ তো বটেই তার সাথে সাথে প্রচুর হাসিরও।

bangla hasir golpo. bangla funny golpo. gopal bhar:-

বাংলা চরম হাসির গল্প- ০১

নবাব মীরজাফর একবার সৈন্য সামন্ত নিয়ে কৃষ্ণনগরের সন্নিকটে শিবির স্থাপন করেছিলেন। এদিকে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র পিতৃশ্রাদ্ধে একটি ষাঁড় উৎসর্গ করেছিলেন। পিতৃশ্রাদ্ধে উৎসর্গীকৃত সুন্দর ষাঁড়টি একদিন নবাব শিবিরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়টি নবাব মীরজাফরের নজরে পড়ল। তিনি হৃষ্টপুষ্ট ঐ ষাঁড়টি দুর থেকে নিরীক্ষণ করে উজীরকে বললেন—ইয়েতো বহুত আচ্ছি রয়েল হ্যায়। ইস্কা মাংস আচ্ছা হোগা। উসে পকড়নে বোলো, অউর কসাইকো কল্‌ উসে কাটনে বোলো, খানা বহুত আচ্ছাই বনায়েঙ্গে।

অতএব নবাবের হুকুমে বৃষোৎসর্গের ষাঁড়টি আটক করা হলো। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রও যথাসময়ে এই দুঃসংবাদ পেলেন। পিতৃশ্রাদ্ধের জন্য উৎসর্গীকৃত ষাঁড়টা নবাব আটক করেছেন এবং কাল ওটাকে কেটে খাবেন। এতে তাঁর পিতা স্বর্গে গিয়েও সুখ পাবে না- দুরাচার যবন কিনা বৃষোৎসর্গের ষাঁড়টা কেটে খাবে কিন্তু উপায়ই বা কী। নবাব মীরজাফর ভীষণ একরোখা—একবার যখন তাঁর লোলুপ দৃষ্টি ঐ বাচ্চা ষাঁড়টার ওপর পড়েছে— তখন আর ষাঁড়টা ছাড়িয়ে আনার কোন উপায় নেই। অনুরোধ টনুরোধ করে কোনো কাজ হবে না। নবাব মীরজাফর বজ্জাত লোক। এই কথা ভাবতে ভাবতে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র বিষণ্ণ মুখে রাজসভায় প্রবেশ করলেন।

গোপাল মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে চিন্তাগ্রস্থ দেখে জিজ্ঞাসা করল— “কী ব্যাপার মহারাজ আপনি এত চিন্তাগ্রস্থ কেন?” মহারাজ উত্তর দিলেন- “ সাধে কি আর চিন্তা করছি গোপাল। পিতৃশ্রাদ্ধে উৎসর্গীকৃত সেই সুন্দর বাচ্চা ষাঁড়টাকে নবাব মীরজাফর আটক করেছেন, শুনলাম কাল ওটাকে কেটে খাবেন। গোপাল, আমি কত অযোগ্য  পিতার জন্য উৎসর্গীকৃত ষাঁড়টিকেও রক্ষা করতে পারছি না।“

সব কথা শুনে গোপাল বলল— “এর জন্যে এত ভাবনা। এক্ষুণি নবাব সাহেবের শিবিরে গিয়ে ষাঁড়টিকে ছাড়িয়ে আনছি।“ এটি শুনে মহারাজ বললেন- “গোপাল, কাজটা যত সহজ ভাবছ, তত সোজা নয়।

গোপাল-  “সোজা আঙ্গুলে যে ঘি উঠবে না আমিও তা বেশ ভালোভাবেই জানি মহারাজ। আমি কৌশল করেই ষাঁড়টাকে ছাড়িয়ে আনব।“

bangla hasir golpo. bangla funny golpo.
bangla hasir golpo. bangla funny golpo. বাংলা হাসির গল্প

মহারাজ — “তুমি যদি তা পার, আমি তোমাকে প্রচুর পুরস্কার দেব।“ এরপর গোপাল নবাব মিরজাফরের শিবিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।

গোপাল নবাব মীরজাফরের শিবিরে গিয়ে অভিবাদন করে বলল বন্দেগী নবাব। বহুত বহুত সেলাম।

নবাব তাঁর উজীরকে জিজ্ঞেস করলেন—“ ইয়ে মোটু কৌন হ্যায়?”

উজীর বলল— হুজুর, ইয়ে বহুত দিলচস আদমী হ্যায়। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রজীকা ভাঁড় হ্যায়, বহুত আকলমন্দভী হ্যায়, হাসাঁতাভী খুব।“ উজীরের কাছে গোপালের পরিচয় পেয়ে নবাব মীরজাফর, গোপাল ভাঁড়ের সঙ্গে খোশ গল্পে মেতে উঠলেন।

নবাবের শিবিরের বাইরেই বৃষোৎসর্গের সেই ষাঁড়টি বাঁধা ছিল। কথায় কথায় গোপাল নবাবকে জিজ্ঞেস করল—“ হুজুর— এ বয়েল আপ্‌কো কাঁহা মিলা?”

মীরজাফর-  কিউ? হিয়া মিলা। মালুম হোতা বহুত চর্বিওয়ালা বয়েল হ্যায়, ইসকা মাংস আচ্ছাই হোগা।“

গোপাল মুখ কাঁচুমাচু করে বলল- নবাব সাহেব ঠিকই বলেছেন, এটা খুব চর্বিওয়ালা, মাংসও ভালো হবে, লে কিন…

লেকিন ক্যা হ্যায়? হুজুরালি, আপনাকে বলতে আমার খুব সঙ্কোচ হচ্ছে। কোঈ বাত নেহী— আপ বোলিয়ে। “হুজুরালি এ বয়েল স্রেফ পয়মাল খাতা হ্যায়।“   এটা শুনে নবাব বললেন- “পয়মাল কেয়া চীজ?”

গোপাল তার মুখখানা বিকৃত করে বলল- “টাট্টি, ইসকো লিয়ে টাট্টি খোজনা বহুত মুস্কিল হোতা হ্যায়। এ খড় বিচালি কুছ নেই খাতা— স্রেফ টাট্টি খাতা হ্যায়। হুজুর এ বয়েল বহুত বদমাস। কেউ বাহ্য করতে গেলে তার পিছে পিছে যায়, বিরক্ত করে। এর গোস্ খেতে অবশ্য আপকো ভালোই লাগতে পারে।“

গোপাল ভাঁড়ের কথা শুনে মীরজাফর বললেন— “তোবা তোবা, এ বয়েল এক্ষুণি ছেড়ে দিচ্ছি। এ বয়েল খাওয়ার উপযুক্ত নেহি হ্যায়। আপনি এসে আমার বহুত উপকার করেছেন, ভাঁড়জী। নইলে এই পয়মাল খাওয়া বয়েলের গোস খেতে হ’ত। আমি আপনাকে এই উপকার করার জন্য পঞ্চাশটি মোহর পুরস্কার দিচ্ছি।“

mojar golpo বাংলা হাসির গল্প
mojar golpo বাংলা হাসির গল্প notun hasir golpo

অতএব গোপাল ভাঁড়ের বুদ্ধির কৌশলে বৃষোৎসর্গের ষাঁড়টি নবাব মীরজাফরের কবল থেকে মুক্তি পেল, উপরন্তু গোপাল ভাঁড় মীরজাফরের কাছ থেকে পুরস্কার নিয়ে বগল বাজাতে বাজাতে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে উপস্থিত হল। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সব ব্যাপার শুনে হেসেই অস্থির হলেন। গোপাল ভাঁড়কে পাঁচশ টাকা পুরস্কার দিয়ে বললেন— “সত্যি গোপাল, তোমার তুলনা হয় না তুমি অনন্য।“

গোপাল ভাঁড় দুই তরফ থেকে পুরস্কার পেয়ে ভুঁড়ি বাজাতে বাজাতে নিজের বাড়িতে ফিরে এল।

পড়ুনঃ- মজার গোয়েন্দা গল্প। নতুন গোয়েন্দা গল্প

বাংলা চরম হাসির গল্পঃ- ০২

গোপালের আয় উপায় তখনও তেমন শুরু হয়নি। গোপাল রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সান্নিধ্যে তখনও আসেনি। যতই বুদ্ধিমত্তা থাক, পেটে না খেলে তো চলে না।

গোপাল একদিন তাঁর গুরুদেবের কাছে গিয়ে বলল—“ গুরুদেব, বাড়িতে বেকার হয়ে বসে আছি। আপনার শিষ্য-সেবক অনেক। এবার থেকে আপনি যখন শিষ্যবাড়ি যাবেন, আপনার পোঁটলা-পুঁটলি বইবার জন্য আমায় সঙ্গে নেয়ে যাবেন। তাতে আপনারও সুবিধা হবে, আমিও আপনার সেবা করার সুযোগ পাব।“
গোপালের প্রস্তাব শুনে গুরুদেব বললেন- “বারো মাসের মধ্যে ছ’মাসই আমাকে শিষ্য বাড়ি ঘুরে বেড়াতে হয়। এবার যখন শিষ্য বাড়ি যাব তোকে নিশ্চয়ই সঙ্গে নিয়ে যাব।“

দিন কয়েক পরেই গুরুদেব গোপালকে সঙ্গে নিয়ে শিষ্যবাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলেন। আগেকার দিনে গুরুভক্তি অত্যন্ত প্রবল ছিল। গুরু বাড়ি এলে, শিষ্য তার সামর্থ্যানুযায়ী গুরুসেবার ব্যবস্থা করত।

একদিন গুরুদের স্বপাকে রান্না করে গোপালের আর নিজের পাতে ভাত বেড়ে রেখে গঙ্গায় স্নান করতে গেলেন। গোপালকে পাত আগলে সাক্ষীগোপালের মত গুরুর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হলো।

অপেক্ষমান অবস্থায় গোপাল দেখল গুরুর পাতে ঘি, আর বড় মাছের ছড়াছড়ি, আর গোপালের পাতে ছোট্ট এক টুকরো মাছ, ঘিও নেই—ক্ষীরও নেই।

ব্যাপার দেখে গোপাল গুরুদেব আসতেই একবার ওপাত, আর একবার এপাত ছুঁয়ে বলল— “আমি কোন্ পাতে বসব?”

গুরুদেব দেখলেন দু’পাতই ছুঁয়ে ফেলেছে– অতএব কোন পাতেই তার বসা চলে না, তিনি রুষ্ট হয়ে বললেন- “ওরে হতভাগা, তোর যে কাণ্ডজ্ঞান মোটেই নেই, দুটো পাতই ছুঁয়ে ফেললি। তোর ছোঁয়া পাতে আমি বসব? নে, এখন দু’পাতেরটাই খেয়ে ফেল, আমি শুধু জল খেয়ে এ বেলার মত শুয়ে থাকি।“

গোপাল মুখে বলল— “আমি বুঝতে পারিনি গুরুদেব, সত্যি খুব অন্যায় হয়ে গেছে।“ কিন্তু সে মনে মনে ভাবল, যেমন স্বার্থপর গুরু। থাক গুরু না খেয়ে।

পরদিন আবার গুরুদেব স্নান করতে যাওয়ার আগে বললেন— “কখনও দু’পাত ছুঁয়ে ফেলবি না বুঝলি?”

বাংলা হাসির গল্প গোপাল ভাঁড়ের 2 টি চরম হাসির গল্প
বাংলা হাসির গল্প notun hasir golpo bangla funny story চরম হাসির গল্প image

গোপাল মাথা নেড়ে বলল— “আর কখনই ছুঁইবনা গুরুদেব!” গোপাল দেখল, গুরুদেবের পাতে চর্ব-চোষ্য-লেহ্য-পেয়ের সমাবেশ, তুলনামূলকভাবে গোপালের পাতে কিছু নেই, শুধু ভাতই বেশী।

দূর থেকে গুরুদেবকে আসতে দেখে গোপাল গুরুদেবের নির্দিষ্ট পাতে বসে পড়ল এবং গুরুদেব আসতেই বলল— “ ক্ষিদের জ্বালা সইতে না পেরে এ পাতেই বসে পড়লাম। আজ কিন্তু দু’পাত ছুইনি।“

সেইদিন থেকে গুরুদেব বুঝতে পারলেন শিষ্যটি বড় সেয়ানা, একে সমান অংশ না দিলে চলবে না।

ফেসবুক আপডেটঃ- গল্প আর গল্প
টেলিগ্রাম আপডেটঃ- CharpatraOFFICIAL

“bangla hasir golpo. bangla funny golpo. mojar golpo. বাংলা হাসির গল্প। গোপাল ভাঁড়ের 2 টি চরম হাসির গল্প bangla funny story”

পড়ুনঃ- অসমাপ্ত কষ্টের প্রেমের গল্প

Spread the love

Leave a Reply