আজকের হাস্যকর মজার গল্প টিতে রয়েছে নিজের শখ পূরণ করতে গিয়ে কিভাবে কোথা থেকে জল কোথায় গড়াল তা নিয়ে একটি মনে রাখার মত ঘটনা।

হাস্যকর মজার গল্প:- “লালমোহন”

সবার জীবনের একটি শখ থাকে, তেমনি আমার জীবনের লক্ষাধিক শখের ভীড়ে থাকা শখ গুলির মধ্যে অন্যতম হল টিউশন পড়ানোর শখ। যেদিন থেকে পাশের পাড়ার বুলবুলি দি কে আমাদের পাড়ার খালেক কে টিউশন পড়াতে দেখেছি সেদিন থেকেই আমারও মনে ইচ্ছে আমিও টিউশন পড়াব। কেননা টিউশন পড়ালে একটা আলাদাই ভাঈব থাকে। কেননা, এতে অন্যজনকে পড়াতে হয়, নিজেকে পড়তে হয়না।

আর সবথেকে দারুণ ব্যাপার হল, এতে ইচ্ছে মত পিটে দিয়ে নিজের হাতের চুলকানি আর মনের রাগ দুইই কমানো যায়। তাই মাথায় ভূত চেপেছিল টিউশন পড়াব। যেদিন থেকে অ আ শিখেছি সেই ছোট্ট থেকে সেদিন থেকেই টিউশন পড়ানোর ভূত ধরেছিল আমাকে।

আমি সবাইকে বলে বেড়াতাম, টিউশন পড়বি নাকি! সে যাই হোক ছোট বেলার কথা ছাড়ুন। এখন বড় হয়েছি, বুঝতে শিখেছি যে টিউশন পড়াতে গেলে আগে নিজেকে এক্সপার্ট হতে হয়। গ্রাজুয়েশন পাশ করার পর এত এত প্রস্তাব আসতে লাগল। উহু ভূল ভাবছেন, প্রেমের প্রস্তাব নয়, টিউশন পড়ানোর প্রস্তাব।

হাস্যকর মজার গল্প
হাস্যকর মজার গল্প

যাই হোক বড় মন আর একরাশ উৎসাহ সঙ্গে ঝুড়ি ভর্তি উদ্দীপনা নিয়ে নেমে পড়লাম টিউশন পড়াতে। তবে একটা দারুণ ব্যাপার আমি দেখেছি সেটা হল অনেক সময় টিউশন পড়াতে গিয়ে ভালো ভালো কিছু খাবার মুখে রুচে যায়।

এরকমই এক জায়গায় টিউশন পড়াতাম, আর ওদের বাড়িতে প্রতি শুক্রবার বিশেষ কিছু জিনিস বানাত। তবে একটা বিষয় কি জানেন তো, তারা আমি যাওয়ার পরেই জিনিসটা বানাত। তাই আমি ঠিক করি কিছু টেকনিক খাটাতে হবে।

একদিন সেই বাচ্চাটার মা কে ডেকে বললাম, বৌদি আপনার ছেলে পড়াশোনায় খুব পিছিয়ে পরেছে। আমি প্রতি শুক্রবার ফাঁকা থাকি সেদিন আপনার ছেলেকে এক্সট্রা ক্লাস করাবো।

এরপর থেকে প্রতি শুক্রবার আমি সেই ছেলেটাকে এক্সট্রা ভাবে পড়াতে শুরু করি, কিন্তু আমার আসল উদ্দেশ্য ওকে পড়ানো নয় বরং ওই বাড়ির বিশেষ খাবার টেস্ট করা।

হাসির গল্প- গ্যাস জ্ঞান 

একদিন এরকমই আমি টিউশন পড়াচ্ছি, আর ছেলেটার দাদু আমার জন্য একটি লাল টকটকে মিষ্টি নিয়ে এলো। আর এদিকে জিভে জল কিন্তু দেখেও না দেখার ভান করে আমি পড়িয়ে যেতেই লাগলাম, যেন দাদু বুঝতে পাড়ে, আমি দারুণ পড়াচ্ছি। পড়াশোনা ছাড়া আমার মন অন্য কোথাও নেই।

সেই লাল টকটকে লালমোহন দেখে, নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না। একসময় হাতে মিষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দাদুর দিকে দেখেই ফেললাম। আর জিজ্ঞাসা করলাম, কিছু বলবে নাকি! দাদু আমার হাতে সেই লাল টকটকে লালমোহন মিষ্টি দিয়ে চলে গেল।

<

আমি দাদুকে দেখিয়ে দেখিয়ে সেটা টেবিলে রেখে দিলাম। এদিকে বাকা চোখে দেখতে লাগলাম দাদু কখন ঘর থেকে যাবে! দাদু দরজার ফাটক ও পেরোয় নি, আমার হাত ক্ষিপ্র গতিতে চলে গেল টেবিলে রাখা লাল টকটকে লালমোহন মিষ্টির দিকে।

পড়ুনঃ- নতুন হাসির চুটকি 

মিষ্টি যেই হাতে নিয়েছি অমনি দাদু ঝড়ের মত এসে হাজির। বেশ লজ্জায় পড়লাম। কি আর করা যাবে চামচ দিয়ে লালমোহন টা কেটে অর্ধেকটা পুরোটা মুখে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম।

এক হাতে প্লেট, আরেক হাতে চামচ। সেই চামচের উপর অধিষ্ঠিত লালমোহন। চামচ ধীরে ধীরে মুখের দিকে এগোতে লাগলো। দুটো ঠোঁট খুল যা সিম সিম করে খুলে গেল। লাল মোহন টা চামচ ছেড়ে জিহ্বা তে আসন গ্রহণ করল। কয়েক মিলি সেকেন্ডের মধ্যে আমার জিহ্বা এর মধ্যে থাকা স্বাদকোরক থেকে মস্তিকে তরঙ্গ বয়ে গেল। আর মস্তিস্ক জানান দিল যে, এটা মিষ্টি নয় এটা হল লঙ্কার গুঁড়োর ঝালে ঠেসে থাকা ঝিস্টি। অর্থাৎ ঝালে ঝালে টইটুম্বুর মিষ্টির বিপরীত।

বাংলা হাসির ঘটনা
বাংলা হাসির ঘটনা

আমার মনে হতে লাগলো, চোখ দিয়ে আগুন বেড়িয়ে যাবে কান দিয়ে ধোঁয়া বেড় হবে। জলের খোঁজ করতে গিয়ে দেখি জল নেই। আর পাশে দাদু দাঁড়িয়ে। এমন অবস্থায় না পারছি চিৎকার করতে না পারছি সেই লাল রূপ ধারি লালমোহনের বিপরীত ঝাল মোহন কে বাইরে বেড় করতে। বাধ্য হয়ে না চিবিয়ে গিলেই ফেললাম, আর লুকিয়ে লুকিয়ে মুখটা হা করে রইলাম। আচ্ছা বজ্জাত বুড়ো তো এটা!

আবার এদিকে আমার ছাত্র এতটাই হারামি, আমাকে বলছে স্যার মুখটা ওরকম কালি ঠাকুরের মত লাল হয়ে গেছে কেন! আবার সঙ্গে সঙ্গে দাদুর হুকুম- “একি বাবা, আরেকটা টুকরো যে রয়েই গেছে, সেটাও খাও নইলে মাছি পরবে যে।“ দাদুর তালে তালে ছাত্র ও সুর মেলাল- “হ্যাঁ স্যার ওটাও খান।“

বুকে ঝালের কান্না মুখে হাসি চোখে জল নিয়ে কাঁপা হাতে সেই টুকরো টা নিয়ে মুখের কাছে ধরেছি। দাদু জিজ্ঞাসা করল- কি ব্যাপার বাবা তোমার চোখে জল কেন!

পড়ুনঃ- শিক্ষণীয় গল্প- নতুন শিক্ষণীয় ঘটনা 

আমি হেসে উত্তর দিলাম- আসলে দাদু আপনাদের মত আদর যত্ন জীবনে পাই নি তো তাই চোখে জল এসে গেছে।

কিন্তু এই বজ্জাত বুড়ো কে, কে বোঝায় যে এটা ঝালের জন্য এসেছে। নাকের জল চোখের জল একসাথে মিলেমিশে কোলাকোলি করছে, এদিকে বাধ্য হয়ে সেই বাকি অংশটা যেই মুখে নিয়েছি অমনি পুরো শরীরে একটা তরঙ্গ বয়ে গেলো। আর সহ্য করতে পারলাম না। চেঁচিয়ে উঠলাম।

সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির প্রায় সব লোক এসে হাজির। সবার একটাই প্রশ্ন এরকম চিৎকার কেন! বুড়ো কিছু বলার আগেই আমি বললাম- “দাদু আমাকে এত এত আদর করে মিষ্টি খাইয়েছে, সেই মিষ্টির স্বাদ আহা আহা যেন সাক্ষাৎ যমরাজের দূত এর দেখা দেখিয়ে দিচ্ছে।“

নতুন হাসির গল্প
নতুন হাসির গল্প
<

কে কি বুঝল কে জানে সবাই এ ওর মুখে দেখা দেখি করতে লাগলো। আর এদিকে আমি কুকুরের মত জিভ বেড় করে হাফাচ্ছি। দেখলাম যে দাদু নাতি মিলে বেশ খুকখুক করে হেসে চলেছে। তারমানে এই প্ল্যান আমার ছাত্র আর বুড়ো দুইজনের এই।

প্রায় পনেরো মিনিট লাগলো আমার পুরো ঠিক হতে। কিন্তু আমার চিন্তা হচ্ছে প্রবল চিন্তা হচ্ছে। চিন্তা হচ্ছে আগামীকাল যখন টয়লেটে যাব তখন আমার অবস্থা কি হবে! এত এত রসগোল্লা সরি সরি ঝালগোল্লা খেয়ে কাল এই ঝাল মোহন এর নির্যাস যখন আমার দেহ হতে বেড়িয়ে যাবে তখন আমার অবস্থা যে কি হবে সেটা ভেবেই বারবার আতঙ্কিত হচ্ছি।

ব্ল্যাক শ্যাডো

লাল মোহনের কালিতে
গল্প পাঠাতে পারেন- charpatrablog@gmail.com -এ অথবা সরাসরি WhatsApp -এর মাধ্যমে এখানে ক্লিক করে। 

সমস্ত কপিরাইট ছাড়পত্র দ্বারা সংরক্ষিত। গল্পটির ভিডিও বা অডিও বা অন্য কোনো মাধ্যমে অন্যত্র প্রকাশ আইন বিরুদ্ধ। ছাড়পত্র এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবে।

পড়ুনঃ- 
নতুন হাসির গল্প 

বাস্তব জীবনের শিক্ষণীয় গল্প- জীবন অঙ্কুর 
আমাদের সাথে যুক্ত হবেন যেভাবে- 

ফেসবুক Group - গল্প Junction 

ফেসবুক- ছাড়পত্র

টেলিগ্রাম- charpatraOfficial

WhatsApp Group- ছাড়পত্র () 

হাস্যকর মজার গল্প। বাংলা হাসির ঘটনা। নতুন হাসির গল্প। 1 new bengali funny story.

Spread the love

Leave a Reply