ব্ল্যাক হোল ।। ব্ল্যাক হোল কিভাবে সৃষ্টি হয় ? TOP NEW 11 FACTS ABOUT BLACK HOLE ব্ল্যাক হোল তত্ত্ব।। Q & A ON BLACK HOLE মহাবিশ্বের অবাক তথ্য

Spread the love

ব্ল্যাক হোল কথাটি আশা করি প্রায় সবারই শোনা। এই ব্ল্যাক হোল-কে ঘিরে রয়েছে, নানান রহস্য। আজকের ব্লগের আলোচনার বিষয় এই ব্ল্যাক হোলকে নিয়েই।

ব্ল্যাক হোল সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য

1. ব্ল্যাকহোল আসলে আমাদের মহাকাশেরই একটি অংশ। এই জায়গাটির মাধ্যাকর্ষণ বল অন্যান্য জায়গা গুলি থেকে অনেক বেশি হয়ে থাকে। এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির পরিমাণ এতই বেশি হয় যে, এটি থেকে কোনো বস্তু এমনকি রশ্মিও বাইরে বেড় হয়ে আসতে পারে না।

2. ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির পরিমাণ অনেক বেশি বেড়ে যায়, যার কারণে এর আশে পাশের অঞ্চলগুলির সময়ের গতি কমে যায়। আপনি যতই ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি যাবেন, সময়ও ততই ধীর হতে থাকবে।

ব্ল্যাক হোল ।। ব্ল্যাক হোল কিভাবে সৃষ্টি হয় ? top new 11 facts about black hole ব্ল্যাক হোল তত্ত্ব।। q & a on black hole মহাবিশ্বের অবাক তথ্য
ব্ল্যাক হোল তত্ত্ব

3. পৃথিবীর উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, এমন ব্ল্যাকহোল, আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬০০ আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে।

4. পদার্থ বিজ্ঞানে Event Horizon কে ব্ল্যাক হোলের সীমা বলা হয়ে থাকে। এই বিন্দুর আগে আপনি চাইলেই পুনরায় ফিরে আসতে পাড়বেন। কিন্তু একবার এই বিন্দু যদি আপনি অতিক্রম করেন, এরপর আপনার ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

5. আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গাতেও একটি ব্ল্যাক হোল রয়েছে। আর এটি রয়েছে অনেকটা আকাশগঙ্গার প্রায় মাঝামাঝি অবস্থানে। এই ব্ল্যাক হোলটির নাম হল- Sagittarius- A. এটি আমাদের সৌরজগত থেকে প্রায় ২৫৬৪০ আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার হল এটি আমাদের সৌরজগতের শক্তির মূল উৎস সূর্যের থেকে প্রায় ৫-৩০  গুন বেশি ভর সম্পন্ন।    

ব্ল্যাক হোল ।। ব্ল্যাক হোল কিভাবে সৃষ্টি হয় ? top new 11 facts about black hole ব্ল্যাক হোল তত্ত্ব।। q & a on black hole মহাবিশ্বের অবাক তথ্য
ব্ল্যাক হোল কিভাবে সৃষ্টি হয়? মহাবিশ্বের অবাক তথ্য

6. সাধারণত কোনো বস্তুই ব্ল্যাক হোল এর কবল থেকে বাঁচতে পারে না। কিন্তু এমন একটি জিনিস রয়েছে, যেটি অনবরত ব্ল্যাক হোল থেকে বাইরে ছড়িয়ে পরছে। সেটি হল- Black hole radiation. কিছু বৈজ্ঞানিকদের মতানুসারে, ব্ল্যাক হোল থেকে এই radiation যতই বাইরে বেড় হয়, ততই ব্ল্যাক হোলের ক্ষমতা এবং ভড় কমতে থাকে। এর মাধ্যমে ব্ল্যাক হোল তার শক্তি হারায়।

7. আমরা আমাদের বই গুলিতে ব্ল্যাক হোলের যে চিত্র দেখি, সেখানে সেগুলি ফানেল আকৃতির মত দেখানো হয়েছে। কিন্তু এটি আসলে একটি অঞ্চল বা ক্ষেত্র।

8. ব্ল্যাক হোল একজায়গায় স্থির থাকে না। বরং তারাও মহাবিশ্বের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ায়।

আরও পড়ুনঃ-

সৌরজগতের অজানা রহস্য সৌরজগতের অজানা তথ্য

সাইকোলজির অবাক তথ্য

9. কোনো ব্যাক্তি যদি মহাকাশে ব্ল্যাক হোলের কবলে পড়ে যায়, তাহলে তার ভয়ানক ভাবে মৃত্যু হতে পারে। কারো মতে, সেই ব্যাক্তির শরীর ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে। আবার কারো মতানুসারে, সেই ব্যাক্তি যখনই event horizon পার করবে, তখনই তার শরীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রবল টানে অতুলনীয় গতিতে ব্ল্যাক হোলে ঢুকে গিয়ে তার মৃত্যু হবে।

10. যদিও নামটি শুনে মনে হচ্ছে- ব্ল্যাক হোল হয়ত একদম অন্ধকারের মত কালো কুচকুচে হবে। কিন্তু আদতে তা নয়।  ব্ল্যাক হোলের গ্রাভিটির জন্য এর ভেতর থেকে কোনো আলো বেড়িয়ে আসতে পারে না আর এর জন্যই আমরা ব্ল্যাক হোলকে কালো দেখি।

11. একটি ব্ল্যাক হোল অপর আরেকটি ব্ল্যাক হোলের সাথে মিলিত হয়ে নিজেদের আকার বৃদ্ধি করতে পারে।

ব্ল্যাক হোল সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন

কি হবে যদি কেউ ব্ল্যাকহোলে পড়ে যায়?

আমাদের শরীর সাধারণত বিভিন্ন জৈব এবং অজৈব পদার্থের সংমিশ্রণে তৈরি। কোনো ব্যাক্তি যতই ব্ল্যাক হোলের দিকে পড়তে থাকবে, ততই তার কাছে সময় থেমে যেতে থাকবে। যদি কোনো ব্যাক্তি ব্ল্যাক হোলে পড়ে যাওয়ার সময় হাতে ঘড়ি পড়ে, থাকে তাহলে সে, দেখবে যে ঘড়ির কাটার গতি ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছে, এবং একটা সময় পর ঘড়িটি থেমে যাবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই ব্যাক্তিটি Event Horizon বিন্দু পার করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার শরীরের তেমন কোনো বিশেষ ক্ষতি হবে না।

এরপর যখনই সেই ব্যাক্তিটির শরীর Event Horizon পার করবে তখনই তার শরীর হঠাৎ প্রবল মাধ্যাকর্ষণ বলের টান অনুভব করবে এবং একটি হেচকা টানের মাধ্যমে সে দ্রুত ব্ল্যাক হোলের ভিতরে ঢুকতে থাকবে। আর এরপর শুরু হয়ে যাবে শরীরের অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিখন্ডন প্রক্রিয়া।

ব্ল্যাক হোল ।। ব্ল্যাক হোল কিভাবে সৃষ্টি হয় ? top new 11 facts about black hole ব্ল্যাক হোল তত্ত্ব।। q & a on black hole মহাবিশ্বের অবাক তথ্য
কি হবে যদি কেউ ব্ল্যাক হোলে পড়ে যায় Image by Stefan Keller from Pixabay

কি হবে যদি, সূর্য ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়ে যায়?

আসলে সোজা কথায় বলতে গেলে সূর্য কোনোদিনই ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে না। আর এর কারণ হল সূর্যের আয়তন। সূর্যের আয়তন ব্ল্যাক হোল সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত নয়।

ব্ল্যাক হোল কি চোখে দেখা যায়?

না ব্ল্যাক হোল খালি চোখে দেখা যায় না। আর এর কারণ হল এর অভ্যন্তরে মাধ্যাকর্ষণ বলের পরিমাণ এত বেশি হয় যে, এর থেকে কোনো বস্তু এমনকি আলোও বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে না। আর আমরা জানি যে, কোনো বস্তু বা পদার্থ থেকে আলো বা রশ্মি বিচ্ছুরিত না হলে, আমরা সেই বস্তুটিকে দেখতে পারি না।

ব্ল্যাক হোল কে আবিষ্কার করেন?

ব্ল্যাক হোল প্রথম আবিষ্কার করেন আমেরিকান বিজ্ঞানী মিচেল ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি সূর্যের থেকে প্রায় ৫০০ গুন বড় একটি কালো বস্তুকে মহাকাশে ভ্রমণ করতে দেখেন। তিনি এই কালো বস্তুটির নাম করন করেছিলেন DARK STAR. পরবর্তীতে এটিই BLACK HOLE নামে পরিচিত হয়।

ব্ল্যাক হোল ।। ব্ল্যাক হোল কিভাবে সৃষ্টি হয় ? top new 11 facts about black hole ব্ল্যাক হোল তত্ত্ব।। q & a on black hole মহাবিশ্বের অবাক তথ্য
top new 11 facts about black hole

ব্ল্যাক হোল কিভাবে সৃষ্টি হয়?

মনরিলের মতে, “যখন কোনো সাধারণ বস্তু সংকুচিত হয়ে যথেষ্ট পরিমাণে ছোট হয়ে যায়, তখন থেকে ব্ল্যাক হোলের সূচনা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যখন বড় বড় নক্ষত্রের জ্বালানি শেষ হয়ে যায়, তখন তারা মহাকর্ষের মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে।


Spread the love

Leave a Reply